জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত সরকারি কৌঁসুলি আজাদ রকিব আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, অভিযোগ করলেও মামলাগুলোর এখনো অভিযোগপত্র গঠন করা হয়নি। নিম্ন আদালতে মামলার পলাতক আসামিরা এখনো হাজির হননি।

ফেসবুকে ধর্মীয় অবমাননাকর পোস্টের ঘটনায় রসরাজ দাস নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের ধারায় মামলা হয়। ঢাকার পিবিআই ও সিআইডির ফরেনসিক বিভাগ রসরাজের ফেসবুক ও মুঠোফোনে ওই পোস্টের অস্তিত্ব পায়নি। সেই রহস্য উদ্‌ঘাটন না করেই অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ আসামিপক্ষের আইনজীবীর। তবে ঘটনার সঙ্গে রসরাজ ও জাহাঙ্গীর আলমের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা শাখা পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন। 

রসরাজ দাস (৩৬) উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের হরিণবেড় গ্রামের জগন্নাথ দাসের ছেলে। পেশায় তিনি একজন জেলে। জাহাঙ্গীর আলম একই ইউনিয়নের সংকরাদহ গ্রামের বাসিন্দা। জাহাঙ্গীর ও তাঁর লোকজন ফেসবুকের ওই পোস্টের পর রসরাজকে আটক করে পিটিয়ে পুলিশে দেন। আর জাহাঙ্গীর ওই পোস্টের ছবিটি নিজের দোকান থেকে প্রিন্ট করে লিফলেট বানিয়ে ওই দিন সন্ধ্যায় বিলি করেন। জাহাঙ্গীর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

রসরাজের আইনজীবী নাসির মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, রসরাজের ফেসবুকসহ সব ডিভাইসে পোস্টের অস্তিত্ব পায়নি ফরেনসিক বিভাগ। পোস্টের রহস্য উদ্‌ঘাটন না করেই অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রসরাজের ফেসবুকের পোস্টের জেরে ২০১৬ সালের ৩০ অক্টোবর সকালে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের উপজেলা শাখার নেতারা নাসিরনগর কলেজ মোড়ে বিক্ষোভের ডাক দেন। অন্যদিকে খাঁটি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের নেতারা নাসিরনগর খেলার মাঠে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেন। পৃথক এই সমাবেশ চলাকালে উপজেলা সদরে ১৫টি মন্দির ও হিন্দুসম্প্রদায়ের শতাধিক বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট-অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় সাতটি মামলা হয়। আর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ এনে রসরাজের নামে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের ধারায় একটি মামলা করে পুলিশ। আট মামলায় প্রায় তিন হাজার লোককে আসামি করা হয়। 

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ৮ মামলায় এখন পর্যন্ত ২৫২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের মামলাটি বাদে বাকি ৭টি মামলায় ৩৯ জন ১৬১ ধারায় পুলিশের কাছে এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের মামলা ২ জন, দত্তবাড়ির মন্দিরে হামলার মামলায় ৪ জন, গৌরমন্দিরের হামলার মামলায় ৪ জনসহ মোট ১০ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। 

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মহাকালপাড়া গৌরমন্দির ভাঙচুরের মামলায় ২০১৭ সালের ১০ ডিসেম্বর ২২৮ জনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। গত বছর এই মামলার অভিযোগপত্র গঠন করা হয়। কিন্তু আসামিপক্ষের করা রিভিশন মোকাদ্দমার কারণে বিচার কার্যক্রম বর্তমানে স্থগিত রয়েছে।

জেলা সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি আবু সাঈদ বলেন, মামলাগুলোয় পুলিশ অভিযোগপত্র দিয়েছে বলে শুনেছেন। কিন্তু এখনো বিচারকাজ শুরু না হওয়া দুঃখজনক। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনলেই সামাজিক সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় হবে বলে মনে করেন তিনি।