রাউজানে সোয়া লাখ টাকায় গরু কিনে ভোজের আয়োজন আর্জেন্টিনা–ভক্তদের

চট্টগ্রামের রাউজানে আর্জেন্টিনা ভক্তদের আয়োজনে ২০টি ডেকচিতে চলছে বিরিয়ানি রান্না। রোববার বিকেলে উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে
ছবি: প্রথম আলো

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল খেলা বড় পর্দায় দেখতে আসা ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বিরিয়ানি রান্নার আয়োজন করেছেন আর্জেন্টিনা দলের সমর্থকেরা। এ জন্য ১ লাখ ২৫ হাজার টাকায় কেনা হয়েছে গরু। প্রায় দুই হাজার মানুষের জন্য এ বিরিয়ানি রান্না করা হচ্ছে। যাঁরা গুরুর মাংস খান না, তাঁদের জন্য রান্না হচ্ছে ১০০ কেজি মুরগির বিরিয়ানি।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজারের ব্যবসায়ীরা এ আয়োজন করেছেন। এতে সহযোগিতা করেছেন পাহাড়তলী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মুহাম্মদ রোকন উদ্দিন।

আজ রোববার রাত ৯টায় শুরু হওয়া আর্জেন্টিনা বনাম ফ্রান্সের ফাইনাল খেলা বাজারের বড় পর্দায় দেখানো হবে। এ খেলা দেখতে আসা ফুটবলপ্রেমীদের খেলার মধ্যবিরতিতে এ বিরিয়ানি পরিবেশন করা হবে।

আয়োজনকারী ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, আজ সকালে গরুটি জবাই করা হয়। বাজারের একটি কমিউনিটি সেন্টারে ২০টি ডেকচিতে চলছে বিরিয়ানি রান্না।

আজ ফাইনালে আর্জেন্টিনা জিতবে—এমন আশা ব্যক্ত করে আয়োজকেরা আরও জানান, নিজেদের টাকায় ও ইউপি চেয়ারম্যান রোকন উদ্দিনের সহযোগিতায় খাবার ও বড় পর্দায় খেলা দেখানোর আয়োজন করেছেন। বাজারে বসানো হয়েছে ১৫ ফুট দৈর্ঘ্যের ও ২৫ ফুট প্রস্থের বড় পর্দা।

আর্জেন্টিনার সমর্থক ও খাবার আয়োজক কমিটির মুহাম্মদ সালাহ উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মিলে তাঁরা খাবারের আয়োজন করেছেন। খেলার মধ্যে বিরতিতে খাবার পরিবেশন করা হবে। দিনভর তাঁরা খাবার আয়োজনে ব্যস্ত আছেন। দুই থেকে তিন হাজার মানুষ প্রিয় দলের খেলা দেখতে জড়ো হবেন বলে আশা করছেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও রাউজান প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গাজী জয়নাল আবেদীন ওই পর্দায় খেলা দেখবেন। তিনি বলেন, এখানে সবাই মিলে খেলা দেখার আনন্দই আলাদা। এটা খেলাধুলার উৎসাহে নতুন মাত্রা যোগ করছে।

পাহাড়তলী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রোকন উদ্দিন নিজেও একজন আর্জেন্টিনা-ভক্ত। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাজারের বেশির ভাগ ব্যবসায়ী আর্জেন্টিনার ভক্ত। তাঁরা ফাইনাল খেলা দেখতে আসা ফুটবলপ্রেমী দুই হাজার মানুষের জন্য বিরিয়ানি রান্নার আয়োজন করেছেন। আমিও তাঁদের সহযোগিতা করেছি। এখানে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সকাল থেকে উপস্থিত থেকে সবকিছু তদারক করছি।’