নাসিরনগরে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে পাঁচ ঘণ্টা পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ, আহত ৩০

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে সংসদ নির্বাচনে জাল ভোট ও কারাদণ্ডের জের ধরে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নেছবি : প্রথম আলো

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে সংসদ নির্বাচনে জাল ভোট ও কারাদণ্ডের জের ধরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোয়ালনগর ইউনিয়নে বিএনপির সমর্থক রহিম তালুকদারের লোকজন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনে জয়ী বিএনপির প্রার্থী এম এ হান্নানের পক্ষের লোক। একই ইউনিয়নের কাশেম মিয়া ও তাঁর লোকজন ওই আসনে দলের ‘বিদ্রোহী প্রার্থী কে এম কামরুজ্জামান মামুনের অনুসারী। ভোটের দিন সকালে গোয়ালনগর উচ্চবিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার প্ররোচনার অভিযোগে এম এ হান্নানের পক্ষের সমর্থক জিয়া মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দেন।

তিন দিন আগে জিয়া মিয়া কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফেরেন। তাঁর সন্দেহ ছিল, স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে এম কামরুজ্জামান মামুনের পক্ষের সমর্থক শিশু মিয়া সেনাবাহিনীর কাছে তথ্য দিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তারে সহযোগিতা করেছিলেন। এই সন্দেহ থেকে গতকাল সোমবার বিকেলে শিশু মিয়াকে মারধর এবং তাঁর মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। এরপর আজ সকাল থেকে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। দুপুর আড়াইটার দিকে কাশেম মিয়া পক্ষের লোকজন গোয়ালনগর স্কুলপাড়া জামে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোকজন জড়ো করেন। কাশেমের পক্ষের লোকজন একইভাবে ইউনিয়নের লালুয়ারটুক জামে মসজিদ থেকেও সংঘর্ষে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। পরে লালুয়ারটুক এলাকার একটি ইটভাটা থেকে ট্রাকে করে ইটের খোয়া এনে হামলায় ব্যবহার করা হয়। একপর্যায়ে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন।
খবর পেয়ে নাসিরনগর থানা ও চাতলপাড় ফাঁড়ির পুলিশের সদস্যরা গিয়ে সন্ধ্যায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিরা নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে রহিম তালুকদার ও কাশেম মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁরা মুঠোফোন ধরেননি।

গোয়ালনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজহারুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘দুই পক্ষের মধ্যে আগে থেকে বিরোধ ছিল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাল ভোট দেওয়া নিয়ে সন্দেহ ও ভুল–বোঝাবুঝি থেকেই রহিম তালুকদার ও কাশেম মিয়ার পক্ষের মধ্যে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। সংঘর্ষের সময় আমি এলাকায় ছিলাম না। মসজিদের মাইকের ঘোষণার বিষয়টি আমি শুনিনি।’

নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, রহিম তালুকদার ও কাসেম মিয়ার পক্ষের মধ্যে আগে থেকে বিরোধ চলে আসছিল। পূর্ববিরোধে উভয় পক্ষের মধ্যে একাধিক ছোটখাটো ভুল–বোঝাবুঝির ঘটনা ঘটেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই পক্ষ দুই দিকে অবস্থান করেছিল। পূর্ববিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোকজন জড়ো করা হয়েছে প্রসঙ্গে ওসি বলেন, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। মানুষ বাড়িয়ে বলছে।