লালপুর থানা-পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আজ বেলা সোয়া একটার দিকে দুয়ারিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে টিসিবির পণ্য বিক্রি করার সময় ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান (৩৫) নিয়মমাফিক লাইনে না দাঁড়িয়ে জোর করে মালামাল নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ কর্মী রানা সর্দার (৩৬) তাঁকে বাধা দেন। এতে উভয়ের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের সমর্থকেরা সংঘর্ষে জড়ান। এতে হাবিবুর রহমান ও রানা সর্দারসহ পাঁচজন আহত হন। এ ঘটনার পরপরই টিসিবির পণ্য বিক্রি বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।

দুড়দুড়িয়ার ঘটনায় লালপুর থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

একই সময়ে দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের পানসিপাড়া গ্রামে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেনের (৪২) সঙ্গে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য মনিরুজ্জামানের (৩৫) কথা–কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে দুড়দুড়িয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল হোসেনসহ  ছয়জন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

নাজমুল হোসেন বলেন, ‘রাজশাহীতে বিএনপির সমাবেশ উপলক্ষে দুড়দুড়িয়া বাজারে বিএনপির কিছু নেতা-কর্মী সভা করছিলেন। এ সময় আমরা তাঁদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে দুড়দুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেনের লোকজন আমাদের পথরোধ করে মারধর করেন।’

তোফাজ্জল হোসেন গত ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ছিলেন। তিনি ওই ছাত্রলীগ নেতার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

লালপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আফতাব হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেয় না। সাংগঠনিকভাবে কেউ অভিযোগ করলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহা. মোনোয়ারুজ্জামান বলেন, দুড়দুড়িয়ার ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। আর দুয়ারিয়ার ঘটনায় এখনো কেউ অভিযোগ করেননি। দুটি ঘটনাই খতিয়ে দেখে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।