নরসিংদীতে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে জখম, অভিযোগ দলের আরেক নেতার অনুসারীদের বিরুদ্ধে
নরসিংদীতে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে এলাকায় ফেরার পথে এক বিএনপি নেতার ওপর হামলা হয়েছে। তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে টাকা লুট করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে শহরের বড় বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
হামলায় আহত নজরুল ইসলাম (৫২) সদর উপজেলার আলোকবালী ইউনিয়ন বিএনপির সদ্য বিদায়ী কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ইউনিয়নটির মুরাদনগর গ্রামের দুর্বাজ মিয়ার ছেলে। পেশায় তিনি একজন পল্লিচিকিৎসক।
নজরুল ইসলামের অভিযোগ, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, অবৈধ বালু উত্তোলন, কৃষিজমির মাটি কাটাসহ বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তাঁর ওপর হামলা চালিয়েছেন আলোকবালী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল কাইয়ুম মিয়ার অনুসারী ৮ থেকে ১০ জন।
নজরুল ইসলাম জানান, তিনি নরসিংদী শহরের একটি ব্যাংক থেকে টাকা তুলে আলোকবালীতে ফিরছিলেন। রিকশায় করে বড় বাজার এলাকা অতিক্রমের সময় হামলাকারীরা তাঁর গতি রোধ করে। রিকশা থেকে নামিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে কোপানো হয়। ব্যাংক থেকে তোলা টাকা লুট করে নিয়ে যায় তারা।
স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় নজরুল ইসলামকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পাঠান। চিকিৎসক তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পর্যবেক্ষণে রেখেছিলেন। শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি হলে গতকালই স্বজনেরা তাঁকে ঢাকায় নিয়ে যান।
নরসিংদী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিপাশা মাসুক বলেন, নজরুল ইসলামের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আলোকবালী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল কাইয়ুম মিয়ার মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি কল ধরেননি।
নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ আর এম মামুন জানান, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, অবৈধ বালু ব্যবসা, জমি দখল ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে নজরুল ইসলাম ও আবদুল কাইয়ুম মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে এর আগে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গত বছর দুই পক্ষের সংঘর্ষে ৩ জন নিহত হয়েছিলেন।