এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকায় জমি নিয়ে বাবলু মাতুব্বর ও মান্নান মাতুব্বরের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধ মেটাতে শনিবার সকাল ১০টা থেকে সালিস বৈঠক বসে। এতে ওই ইউনিয়নের বর্তমান, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানসহ আশপাশের বিভিন্ন ইউনিয়নের সাত–আটজন বর্তমান ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন। বেলা দেড়টা পর্যন্ত সালিস বৈঠক চললেও কোনো সমাধান আসেনি। সালিসের পরবর্তী দিন ধার্য করা হয় আগামী শনিবার (১২ নভেম্বর)।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সালিস শেষে সবাই চলে যাওয়ার পর কিশোর নবীন একটি গাছে হেলান দিয়ে দাঁড়ানো ছিল। নবীনের বাবা ফারুক মাতুব্বর বাবুল মাতব্বরের চাচাতো ভাই। গাছের হেলান দিয়ে দাঁড়ানো থাকা অবস্থায় প্রতিপক্ষ একটি ছুরি দিয়ে নবীনের গলায় পোঁচ দেয়। এতে নবীন গুরুতর আহত হয়।

এলাকাবাসী নবীনকে উদ্ধার করে প্রথমে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থনান্তর করেন। ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে মারা যায় নবীন।

এ ঘটনার পর এলাকার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধরা কয়েকটি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ওই গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) মো. হেলাল উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় একটি হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে। ওই এলাকার পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।