সোনারগাঁয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে গৃহবধূর মামলা, বাড়ি ফিরতে পারছে না পরিবার
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ নিরাপত্তাহীনতার কারণে নিজ বাড়িতে ফিরতে পারছেন না। তিনি অভিযোগ করেছেন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হলেও অভিযুক্তদের পরিবার মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দেওয়ায় স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে অবস্থান করছেন তিনি।
তবে পুলিশ বলছে, ভুক্তভোগী পরিবার চাইলে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
গত বুধবার উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের সিরাবো এলাকায় ওই গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় শুক্রবার মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ যুবদল নেতাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার দুজন হলেন জামপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শহীদ মিয়া (৪০) এবং তাঁর সহযোগী একই এলাকার শাহিন মিয়া (৩৮)। তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জামপুর ইউনিয়নে ভাড়া বাসায় স্বামী ও দুই সন্তান নিয়ে বসবাস করেন ওই নারী। বুধবার বিকেলে রাজমিস্ত্রির সহকারী স্বামী কর্মস্থলে থাকাকালে অভিযুক্তরা বাড়িতে প্রবেশ করে। পরে দুই শিশুসন্তানকে ভয়ভীতি দেখিয়ে পাশের একটি ভবনের কক্ষে নিয়ে গৃহবধূকে জোরপূর্বক দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি বিষয়টি সালিসের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করেন। এমনকি থানায় মামলা করতে গেলে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারীর স্বামী প্রথম আলোকে বলেন, ‘মামলা করার পর এলাকায় ফিরে যাওয়ার সাহস পাচ্ছি না। স্ত্রী অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে আছে। দুই সন্তানকে নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। কাজে যেতে পারছি না। মামলা তুলে নিতে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কীভাবে চলব—কিছুই বুঝতে পারছি না।’
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের (ভিক্টোরিয়া) আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ওই গৃহবধূর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে ওই গৃহবধূ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে আছেন।
সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, মামলা দায়েরের পর দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক অপর আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ভুক্তভোগী পরিবার চাইলে তারা নিজ বাড়িতে নিরাপদে বসবাস করতে পারবে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িকেও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।