দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে কাঁদলেন আওয়ামী লীগ নেতা

দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন সোনাগাজী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মাহমুদ। গতকাল পৌরশহরের একটি মিলনায়তনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সমর্থনে এক মতবিনিময় সভায়ছবি: প্রথম আলো।

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে অঝোরে কাঁদলেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সোনাগাজী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মাহমুদ। গতকাল বুধবার সোনাগাজী পৌরশহরের একটি মিলনায়তনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থী মো. আবুল বাশারের সঙ্গে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় দলীয় নেতা-কর্মীরাও তাঁর বক্তব্য শুনে কেঁদেছেন।

জহির উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘আমি এবার ফেনী-৩ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন চেয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে দেখা করতে গেলাম। তিনি আমাকে বললেন, তোমার ইউনিয়নে (নবাবপুর) আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী ফেল করেছে। এখানেই তো তোমার সব শেষ হয়ে গেছে। তুমি কিসের সংসদ নির্বাচন করবা। এরপর আমি সেখান থেকে বের হয়ে চলে আসি। আপনাদের ভালোবাসায় আমি রাজনীতিতে এসেছি। এখন যদি আমার রাজনীতি শেষ হয়ে যায়, আমাকে ক্ষমা করে দেবেন।’

এই বক্তব্য দেওয়ার সময় বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন জহির উদ্দিন মাহমুদ। পাশে থাকা নেতা-কর্মীদেরও এ সময় টিস্যু দিয়ে চোখের পানি মুছতে দেখা যায়।

আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে আয়োজিত সভায় নিজের কথা বলতে বলতে আবেগ প্রবণ হয়ে পড়েন সোনাগাজী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মাহমুদ। গতকাল পৌরশহরের একটি মিলনায়তনে
ছবি: প্রথম আলো।

জহির উদ্দিন মাহমুদ আরও বলেন, ‘আমার সঙ্গে নবাবপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনের ৪০ বছরের পারিবারিক সম্পর্ক। যাঁরা সোনাগাজীর রাজনৈতিক ইতিহাস জানেন না, তাঁরা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার ছড়িয়েছেন। আমি নাকি তাঁকে হারিয়ে দিয়েছি, এখন কী করে এমপি নির্বাচন করব। আমার বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগের নেতা ছিলেন। ফেনীর ইতিহাসে খাজা আহাম্মদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। আমি আপনাদের কাছে বিচার চাইলাম। জনপ্রতিনিধি হওয়ার রাজনীতি আমি আর করব না। ফেনী জেলার একটি ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী জয় লাভ করেছে, এর দায় আমাকে নিতে হয়েছে। দেলোয়ার সাহেব কী কারণে ফেল করেছেন, তা আপনারা সবাই জানেন।’

ফেনী-৩ (দাগনভূঞা ও সোনাগাজী) আসনে ১৫ জন আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করেছিলেন। তাঁদের মধ্য থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল বাশারকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়া হয়। গতকাল বুধবার বিকেলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মফিজুল হকের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় বক্তব্য দেন, নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আবুল বাশার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম প্রমুখ। সভায় যেকোনো মূল্যে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থীকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।