রাউজানে প্রকাশ্যে গুলি করে যুবদল কর্মী হত্যার ঘটনায় মামলা, দুই দিনেও গ্রেপ্তার নেই
চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল কর্মী মোহাম্মদ করিমকে (৩৬) কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যার ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাতে নিহত করিমের স্ত্রী বিলকিস আক্তার বাদী হয়ে রাউজান থানায় মামলাটি করেন। অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে এ মামলা করা হয়। এদিকে হত্যাকাণ্ডের দুই দিনেও পুলিশ এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
মামলার বিষয়টি রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন। আজ শনিবার সকালে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘বাদী কোনো আসামির নাম উল্লেখ করেননি। কতজন হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন, সেটিও দেননি।’ আসামি গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো কোনো আসামিকে শনাক্ত করা যায়নি। তাই গ্রেপ্তার করাও সম্ভব হয়নি।
গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাউজানের কেরানীহাট বাজারে ১০ থেকে ১২ জন অস্ত্রধারী প্রথমে কুপিয়ে এবং পরে ৩টি গুলি করে মোহাম্মদ করিমকে হত্যা করে। নিহত মুহাম্মদ করিম যুবদলের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তবে তাঁর কোনো পদ ছিল না।
প্রকাশ্যে এ খুনের ঘটনার পর ব্যস্ততম বাজারটির দোকানিরা দোকানপাট বন্ধ করে দিয়ে চলে যান। ঘটনাস্থলে প্রায় এক ঘণ্টা করিমের লাশ পড়ে ছিল। পরে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। ময়নাতদন্ত শেষে আজ সকালে লাশটি তাঁর পরিবারকে হস্তান্তর করে পুলিশ। জোহরের নামাজের পর তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
নিহত ব্যক্তির স্ত্রী বিলকিস আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে করিম হাটহাজারীতে ছিলেন। তাঁকে ফোন করে রাউজানে ডেকে নেওয়া হয়। এরপর হত্যা করা হয়েছে। তবে কারা ফোন করে করিমকে ডেকে নেন, তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত নন বলে জানান বিলকিস আক্তার।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে রাউজানে ২৭টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ২০টি হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক বিরোধের জেরে হয়েছে। একই সময়ে শতাধিক গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হওয়াসহ সাড়ে তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।