সেতু নির্মাণ ও সংযোগ সড়কের জন্য পাশের ব্যক্তিগত জমি ব্যবহার করা হচ্ছে। গত সোমবার যশোরের অভয়নগর উপজেলার ইছামতী এলাকায়
ছবি: প্রথম আলো

যশোরের অভয়নগর উপজেলায় ইছামতী খালের ওপর পুরোনো সেতু ভেঙে ফেলা হয়েছে। সেখানে ৬০ দশমিক শূন্য ৫ মিটার দীর্ঘ একটি নতুন সেতু নির্মাণের কাজ চলছে। নতুন সেতুর এক পাশের বর্ধিতাংশ পড়েছে স্থানীয় জেলেপাড়ার বাসিন্দাদের জমিতে। নতুন সেতু নির্মাণ ও সড়ক সম্প্রসারণের ফলে ভিটা থেকে উচ্ছেদের শঙ্কায় রয়েছেন জেলেরা। জেলেদের কোনো ক্ষতিপূরণ ছাড়াই খালের ওপর সেতু নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলেছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্র জানায়, অভয়নগরের ইছামতী এলাকায় ইছামতী খালের ওপর ৩০ মিটার দীর্ঘ ও ৩ দশমিক ৬৬ মিটার প্রস্থ একটি সেতু ছিল। বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এলজিইডির গ্রামীণ সেতু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ভাঙ্গাগেট বাদামতলা-আমতলা ভায়া মরিচা নাউলী বাজার সড়কের ইছামতী খালের ওপর ‍আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ কোটি ৩৩ লাখ ৭০ হাজার ৬৮২ টাকা। মাদারীপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আনোয়ারা ট্রেডার্স সেতুটি নির্মাণের কাজ করছে। গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর সেতুটি নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে এবং ২০২৩ সালের ১৮ জুন তা শেষ হওয়ার কথা।

গত সোমবার ইছামতী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পশ্চিম থেকে পূর্ব দিক চলে গেছে ইছামতী খাল। খালের ওপর আড়াআড়িভাবে উত্তর-দক্ষিণ বরাবর একটি পুরোনো সেতু ছিল। পুরোনো সেতুটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। সেতুর উত্তর পাশে ছোট একটি বাজার। দক্ষিণ পাশে জেলেপল্লি। জেলেপল্লির মাঝখান দিয়ে চলে গেছে ভাঙ্গাগেট বাদামতলা-আমতলা ভায়া মরিচা নাউলী বাজার সড়ক। সড়কটির বর্তমান প্রস্থ ১২ ফুট থেকে বাড়িয়ে ১৮ ফুট করা হচ্ছে। সেতুর দক্ষিণ প্রান্তের সংযোগ সড়কের বাঁ পাশে চারটি দোকান। দুটি দোকান ভাঙা হয়েছে। দোকানের উত্তর পাশে নিচু জায়গায় কয়েকজন শ্রমিক পাইলিংয়ের কাজ করছেন। সড়কের ডান পাশে কয়েকটি ভিটাবাড়ি।

এ সময় কথা হয় জেলেপল্লির কয়েকজনের সঙ্গে। তাঁরা জানান, পুরোনো সেতুটি খালের জায়গায় ছিল। সেতুর দক্ষিণ প্রান্তে তাঁদের বসতভিটা ও দোকান রয়েছে। প্রায় চার মাস আগে সেতু নির্মাণের তোড়জোড় শুরু হয়। তাঁদের সঙ্গে কেউ কথা বলেননি। সেতুর বর্ধিত অংশে তাঁদের প্রায় ৩২ শতক জমি চলে গেছে। ওই জায়গায় তাঁদের একটি রান্নাঘর ও ছয়টি দোকান ছিল। রান্নাঘর ও দোকান ভেঙে সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি দোকান ভেঙে ফেলা হয়েছে। সেতুর সংযোগ সড়কটিও তাঁদের জমির ওপর দিয়ে গেছে। তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কিন্তু তাঁদের কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে না। প্রকৌশলীরা এসে বলে গেছেন, ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। কিন্তু ক্ষতিপূরণ পাবেন কি না, এ নিয়ে তাঁদের সংশয় রয়েছে।

সেতুর পাশেই জেলেপল্লির বাসিন্দা মন্টু পদ বিশ্বাসের বাড়ি। তিনি বলেন, ‘আমার ১৩ শতক জমির ওপর ভিটাবাড়ি। এর মধ্যে ৭ দশমিক ১০ শতক জমির ওপর নতুন সেতু চলে এসেছে। এখন পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার উদ্যোগ দেখতে পাচ্ছি না।’

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আনোয়ারা ট্রেডার্সের প্রকল্প ব্যবস্থাপক লিটন মিয়া বলেন, উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে সেতুর নকশা দেওয়া হয়েছে। সেই ভাবে কাজ চলছে। জমি কার সেটি তাঁদের দেখার বিষয় নয়।

উপজেলা প্রকৌশলী সানাউল হক বলেন, নতুন সেতুর জন্য কয়েকজন জমির মালিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ওই জমির সার্ভে করা হয়েছে। ৩২ শতক জমি অধিগ্রহণের জন্য প্রধান কার্যালয়ে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকেরা ক্ষতিপূরণ পাবেন।