লাঞ্ছিত হওয়া অধ্যক্ষের নাম মাসুদুর রহমান। তিনি উপজেলার উত্তরচক আমিনিয়া কামিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। মাদ্রাসা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগে গতকাল রাতে কয়রা থানায় মামলা করেন অধ্যক্ষের স্ত্রী সাদিয়া সুলতানা। গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে খুলনা মহানগরের হরিণটানা এলাকার ভাড়া বাসা থেকে ইউপি চেয়ারম্যান বাহারুল আলমকে আটক করে র‍্যাব। আটকের পর আজ শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে বাহারুলকে কয়রা থানায় হস্তান্তর করা হয়।

এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি নির্বাচন নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ওই অধ্যক্ষকে মারধর করা হয়। বাহারুল ওই মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি হতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাঁকে সভাপতি না করে পাশের মহারাজপুর ইউপির চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল মাহমুদকে সভাপতি করা হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাসুদুর রহমানকে তুলে নিয়ে মারধর করেন বাহারুল। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের পাশাপাশি জেলা প্রশাসকের কাছেও লিখিত অভিযোগ করা হয়েছিল।

লিখিত অভিযোগ ও মামলার সংক্ষিপ্ত এজাহার থেকে জানা গেছে, গত সোমবার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাসুদুর রহমান মাদ্রাসায় নিজের কাজ করছিলেন। এ সময় সদর ইউপির চেয়ারম্যান এস এম বাহারুল আলম ও মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ মোস্তফা আবদুল মালেকের নির্দেশে ১০ থেকে ১৫ জন ব্যক্তি জামার কলার ধরে তাঁকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে বের করে নিয়ে আসেন। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে সবার সামনে তাঁকে মারধর করেন। পরে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে চেয়ারম্যানের কক্ষে তাঁকে আটকে রাখা হয়। পুলিশ গিয়ে সেখান থেকে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে অবস্থার অবনতি হলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন স্বজনেরা। পরিষদের মধ্যে চেয়ারম্যানও তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে তাঁর চোখ ও কান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ বি এম এস দোহা বলেন, গতকাল রাত ১২টার দিকে অধ্যক্ষের স্ত্রী বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন। মামলার অন্যতম আসামি সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে র‍্যাব আটক করে থানায় হস্তান্তর করে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন