গত ১০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর কার্যালয় থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মধুমতী সেতু উদ্বোধন করেন। ওইদিন রাত ১২টা থেকে সেতুতে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। মধুমতী সেতুর পূর্ব পাড়ে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা এবং পশ্চিম পাড়ে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা। উদ্বোধনের পর থেকেই ছয় লেনের দৃষ্টিনন্দন এই সেতুতে ভিড় করছে দর্শনার্থীরা। বিশেষ করে বিকেল ও সন্ধ্যায় দর্শনার্থীদের প্রচুর ভিড় হয়। আশপাশের জেলা থেকে সেতু দেখতে আসছে লোকজন।

সওজ কর্মকর্তারা জানান, চার শিফটে ভাগ হয়ে গোপালগঞ্জ সওজের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টোল আদায় করছেন। প্রতিটি শিফটে একজন উপসহকারী প্রকৌশলীসহ কমপক্ষে আট জনকে দায়িত্ব পালন করতে হয়। লোকবল সংকটে টোল প্লাজার আটটি কাউন্টারের মধ্যে তিন-চারটি কাউন্টার চালু রাখা হচ্ছে।

টোল প্লাজায় দায়িত্বরত গোপালগঞ্জ সওজের সার্ভেয়ার মো. সোহাগ বলেন, বিকেল চারটা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ঢাকাগামী পরিবহনের ভিড় থাকে বেশি। এ সময়ে বেনাপোল ও যশোর এলাকা থেকে ভারী ট্রাক আসে। আর সকালের দিকে ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে নড়াইল ও যশোরের পথে কাভার্ড ভ্যান ও যাত্রীবাহী গাড়ির চাপ বেশি থাকে।

তবে টোল আদায় নিয়ে বিড়ম্বনার কথাও জানালেন মো. সোহাগ। তিনি বলেন, স্থানীয় লোকজন যানবাহন নিয়ে সেতু পার হতে গিয়ে টাকা দিতে চায় না। নানা পরিচয় দেয়। ঝগড়া করে। বিভিন্ন ধরনের বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়।

টোল আদায় পদ্ধতি ডিজিটালাইজ করার প্রক্রিয়া চলছে উল্লেখ করে গোপালগঞ্জ সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহিদ হোসেন বলেন, টোল আদায় পদ্ধতি যখন পুরোপুরি ডিজিটাল হবে, তখন টোল প্লাজার ক্যামেরা গাড়ির ছবি নিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোল নির্ধারণ করবে। এরপর সয়ংক্রিয়ভাবে টোলের স্লিপ মুহূর্তের মধ্যেই প্রিন্ট হবে। তখন টোল না দেওয়ার সুযোগ থাকবে না।

মো. জাহিদ হোসেন আরও বলেন, সওজের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টোল আদায়ের কাজ করায় অন্য কাজ ব্যাহত হচ্ছে। তাই কোনো প্রতিষ্ঠানকে টোল আদায়ের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে। এটি প্রক্রিয়াধীন।

সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, কনটেইনার বা ভারী মালামাল পরিবহনে সক্ষম যানের টোল ৫৬৫ টাকা, বড় ট্রাক বা কাভার্ড ভ্যান ৪৫০, মধ্যম ট্রাক ২২৫, বড় বাস ২০৫, ছোট ট্রাক ১৭০, পাওয়ার টিলার বা ট্রাক্টর ১৩৫, মিনিবাস বা কোস্টার ১১৫, মাইক্রোবাস বা পিকআপ ৯০, সিডান কার ৫৫, টেম্পো বা সিএনজি অটোরিকশা ২৫, মোটরসাইকেল ১০ এবং ভ্যান, রিকশা বা বাইসাইকেল ৫ টাকা।

মধুমতী সেতু চালু হওয়ার আগে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও টেম্পো কালনা ঘাট থেকে লোহাগড়া ও নড়াইলে যাতায়াত করত। ওই যানগুলো এখন কাশিয়ানীর ভাটিয়াপাড়া মোড় থেকে লোহাগড়া ও নড়াইল যাতায়াত করছে। এতে টোল প্লাজা পার হতে হচ্ছে। ওই রুটের ইজিবাইক চালক সাগর শেখ ও রকিবুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এসব গাড়ির টোল নেওয়া হচ্ছে ২৫ টাকা, যা তাঁদের মতো গরিব মানুষ ও ছোট পরিবহনের জন্য অতিরিক্ত। তিন চাকার যানের জন্য টোল ৫ বা ১০ টাকা করার দাবি তাঁদের।

পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর ভারী যানবাহন ও বড় বাস পদ্মা সেতু পার হয়ে ফরিদপুর ও মাগুরা হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যাতায়াত করত। ওই গাড়ি এখন নড়াইল হয়ে কালনায় মধুমতী সেতু দিয়ে চলাচল শুরু করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সেতুর টোল প্লাজায়  কথা হয় ট্রাকচালক আমির হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আগে পদ্মা সেতু, ফরিদপুর ও মাগুরা হয়ে চলাচল করেছি। কালনায় মধুমতী সেতু হওয়ায় ৩৫ কিলোমিটার পথ কম হয়েছে। সময় ও খরচ কমছে। বেনাপোল থেকে এ সেতুতে আসতে আড়াই ঘণ্টা লেগেছে।’

ঢাকায় চাকরিজীবী নড়াইল এক্সপ্রেস পরিবহনের যাত্রী আল আমিন বলছিলেন, ‘সেতু চালু হওয়ায় সময় অনেক কম লাগছে। কালনা ফেরিঘাটের দুর্ভোগ আর পোহাতে হচ্ছে না।’