বৃহস্পতিবার বিকেলে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অভিযুক্ত যুবলীগ নেতার নাম জিয়া তালুকদার। তিনি কাজীপুর উপজেলার গান্ধাইল ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। এ ঘটনায় সন্ধ্যায় কাজীপুর উপজেলা যুবলীগ ওই নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে। তাঁকে তিন দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, কোনো এক বাড়িতে খাটের ওপরে বসে অন্য একজনের সহায়তায় মাদক সেবন করছেন যুবলীগ নেতা জিয়া তালুকদার। তাঁর ওই সহযোগীর নাম জুয়েল শেখ। তিনি গান্ধাইল ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক।

স্থানীয় নেতা-কর্মীরা বলেন, তিন বছর ধরে ওই ইউনিয়নে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় জিয়া তালুকদারের বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগ উঠেছে বেশ কয়েকবার। তবে তাঁর বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস করেননি।

মাদক সেবনের বিষয়ে জানতে যুবলীগ নেতা জিয়া তালুকদারের মুঠোফোনে আজ বৃহস্পতিবার বেশ কয়েকবার ফোন করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

কাজীপুর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি বিপ্লব সরকার  প্রথম আলোকে বলেন, ফেসবুকে মাদক সেবনের ছবিটি ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর জবাব চেয়ে দলীয় সব কর্মকাণ্ড থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। দলীয় সংবিধান মেনে তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জিয়া তালুকদারের বিরুদ্ধে কাজীপুর উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পারভেজ আহমেদকে  জনসমক্ষে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে। আজ দুপুরে কাজীপুর উপজেলা পরিষদ এলাকায় কুয়াশা হোটেলের সামনে ওই ঘটনা ঘটে। জিয়া তালুকদারের হামলায় আহত পারভেজ আহমেদকে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

যুবলীগ নেতা পারভেজ আহমেদ বলেন, কুয়াশা হোটেলের সামনে তিনি, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম, যুবলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ কয়েকজন নেতা বসেছিলেন। এ অবস্থায় জিয়া তালুকদার ও তার ভাতিজা রুবেল তাঁর ওপর হামলা চালান।

কাজীপুর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আলী আসলাম জানান, দুপুরে জিয়া তালুকদার সংগঠনবিরোধী কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকায় তাঁকে বেশ কয়েকবার সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি সংশোধিত হননি। এ কারণে আগেই তাঁকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।

তবে দলীয় একটি সূত্র জানায়, জিয়া তালুকদারের মাদক সেবনের ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছেন সন্দেহে পারভেজের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।

কাজীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শ্যামল কুমার দত্ত সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে জানান, ‘উপজেলা যুবলীগের নেতা পারভেজের ওপর হামলা ও তাঁকে প্রকাশ্যে মারপিট করা হয়েছে বলে অভিযোগ পেয়েছি। এ ঘটনায়  পারভেজের বড় ভই সফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে জিয়া তালুকদারসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আট-নয়জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।