ময়মনসিংহ নগরে ৫৮ হাজার ৬৬৮ শিশুকে হামের জরুরি টিকাদান কার্যক্রম শুরু
ময়মনসিংহ নগরের ৫৮ হাজার ৬৬৮ শিশুকে হামের টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আজ রোববার সকাল ৯টায় নগর ভবনে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান।
আজ রোববার থেকে শুরু হওয়া জরুরি টিকাদান কর্মসূচি চলবে আগামী ১২ মে পর্যন্ত। তবে শুক্র ও শনিবার টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে নগরের ৩৩টি ওয়ার্ডের ৭০টি কেন্দ্রে টিকা দেওয়া হবে।
চার বছর বয়সী তাসফিন তাজওয়ারকে টিকা দিতে নিয়ে আসেন মা লাভলী আক্তার। তিনি বলেন, ‘চারদিকে হামে আক্রান্ত হয়ে শিশু মৃত্যুর খবর শুনছি। আমার সন্তানের আগের সব টিকা দেওয়া থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে শঙ্কিত রয়েছি। সন্তান যেন সুস্থ থাকে তাই টিকা দিয়েছি।’
সাড়ে চার বছর বয়সী ছেলে হাসিবুল হাসিবকে টিকা দিতে নিয়ে আসেন বাবা জাহাঙ্গীর আলম। তিনি নগরের পণ্ডিতপাড়া এলাকার বাসিন্দা। জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘সরকার যেহেতু টিকা দেচ্ছে, সন্তান যেন ভালো থাকে, সে আশায় টিকা দিতে এসেছি।’
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার সকাল ৮টা থেকে আজ রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হামের লক্ষণ নিয়ে নতুন করে ২৬ শিশু ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে। এ সময়ে জেলার গৌরীপুর ও ফুলপুর উপজেলার ৯ মাস ও ১০ মাস বয়সী দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ১৭ মার্চ থেকে আজ সকাল পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি হয়েছে ৩৯৭টি শিশু। এর মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৩১২ শিশু। গত ২৬ দিনে মৃত্যু হয়েছে ১২ শিশুর। বর্তমানে চিকিৎসাধীন ৭৩ শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে আরও ২৮ শিশু।
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান বলেন, ‘নগরের ৫৮ হাজার ৬৬৮ শিশুকে হামের টিকাদানের আওতায় আনা হচ্ছে। এর বাইরেও যদি কোনো শিশু থাকে, সেই শিশুকেও টিকার আওতায় আনা হবে। ৭০টি দল করে দেওয়া হয়েছে পুরো নগরে। নগরজুড়ে মাইকিং ও মসজিদে জুমার নামাজের পর প্রচার করে টিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। হাম থেকে মুক্ত থাকতে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। এটি একটি জাতীয় সমস্যা। টিকাদানের মাধ্যমেই এটি প্রতিরোধের ব্যবস্থা করাই একমাত্র সমাধান। আমরা আশা করছি, আমাদের শিশুরা নিরাপদ থাকবে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব কম দেখা দেবে।’