পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ইসমাইল হোসেনের বাড়ি পাবনার আটঘরিয়া উপজেলা সদরের হাজিপাড়া গ্রামে। ২ অক্টোবর বিকেলে তিনি বড়ি থেকে অটোরিকশা নিয়ে বের হন। রাতে আর বাড়ি ফেরেননি। ১৩ অক্টোবর সকালে চাটমোহর উপজেলার ফৈলজানা ইউনিয়নের ক্যাথলিক মিশন স্কুলের পাশের একটি ধানখেত থেকে হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আকবর আলী বলেন, নিহত ইসমাইল হোসেনের ভাই ইব্রাহিম হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। এর পর থেকে পুলিশ ঘটনা তদন্তে মাঠে নামে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মাসুদ আলম ও সহকারী পুলিশ সুপার (চাটমোহর সার্কেল) সজীব শাহরীনের নেতৃত্বে একটি দল গঠন করা হয়। পুলিশের দলটি তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার ও স্থানীয় বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে আসামিদের শনাক্ত করে। টানা ৭২ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে গতকাল রাতে প্রথমে গাজীপুর থেকে আতিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার পূর্বাচল থেকে অপর দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়েছে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ থেকে। গতকাল বিকেলে আদালতের মাধ্যমে গ্রেপ্তার আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পলাতক সাদ্দামকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন, নিহত ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার তিন আসামিকে সংবাদ সম্মেলনে হাজির করা হলে আনোয়ারা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় তিনি স্বামীর খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গ্রেপ্তার মুক্তা প্রামাণিক কৃষিকাজ করেন। কৃষিজমির মাঠ থেকে সাদ্দাম হোসেন নামের একজনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। সেখান থেকেই তাঁরা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন এবং মুঠোফোনে অপর দুজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে পাবনা সদরের টেবুনিয়া এলাকায় এসে চারজন মিলিত হয়ে বয়স্ক অথবা শিশু অটোচালক খুঁজতে থাকেন। রাত আটটার দিকে আটঘরিয়া বাজারে এসে অটোরিকশাচালক ইসমাইল হোসেনকে পেয়ে যান। তাঁকে অতিরিক্ত ভাড়া দেওয়ার কথা বলে চাটমোহরের উদ্দেশে রওনা দেন। পথে অটোরিকশা থামিয়ে ইসমাইল হোসেনের হাত-পা বেঁধে হত্যা করে ধানখেতে ফেলে যান তাঁরা।