ঈদে চাল বিতরণে অনিয়ম, রাজবাড়ীতে দুই ইউপি চেয়ারম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত

মদাপুর ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান মদন কুমার প্রামাণিক (বাঁয়ে) ও রতনদিয়া ইউপির চেয়ারম্যান মেহেদী হাচিনা পারভীনছবি: সংগৃহীত

রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার দুটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতার চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। এর ভিত্তিতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া দুই চেয়ারম্যান হলেন উপজেলার রতনদিয়া ইউপির চেয়ারম্যান মেহেদী হাচিনা পারভীন ও মদাপুর ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান মদন কুমার প্রামাণিক।

স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব আবদুর রহমানের সই করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনটি গত রোববার উপজেলা প্রশাসনের হাতে পৌঁছায়।

গতকাল সোমবার থেকে তাঁরা কোনো দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করছেন না। ইউপির স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, এ জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মেজবাহ উদ্দীন, কালুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় খাদ্যশস্য (চাল) বিতরণে অনিয়মের অভিযোগটি তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। বিষয়টি ইউপি ও জনস্বার্থের পরিপন্থী হওয়ায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ৩৪(খ) ও ৩৪ (ঘ) ধারায় অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। একই আইনের ৩৪(১) ধারার ক্ষমতাবলে তাঁদের সাময়িকভাবে পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

এই দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, গত ১৬, ১৭ ও ১৮ মার্চ ভিজিএফের চাল বিতরণের সময় তাঁরা সুবিধাভোগীদের পরিমাণে কম দিয়েছেন। পরে কালুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেজবাহ উদ্দীন উভয় ইউপিতে গিয়ে চাল বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। একই সঙ্গে ওই দুই ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত হয়।

কালুখালীর ইউএনও মেজবাহ উদ্দীন আজ মঙ্গলবার সকালে প্রথম আলোকে বলেন, বরখাস্তের প্রজ্ঞাপন রোববার বিকেলে উপজেলা প্রশাসনের হাতে পৌঁছায়। তাৎক্ষণিকভাবে দুই চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানানো হয়। গতকাল সোমবার থেকে তাঁরা কোনো দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করছেন না। ইউপির স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, এ জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এমন সিদ্ধান্তের বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানালেন রতনদিয়া ইউপির চেয়ারম্যান মেহেদী হাচিনা পারভীন। তাঁর দাবি, ‘আমি এ ধরনের অনিয়মের সঙ্গে কোনোভাবে জড়িত নই।’

অনিয়মে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন মদাপুর ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান মদন কুমার প্রামাণিকও। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘সুবিধাভোগীর সংখ্যা অনেক বেড়ে যাওয়ায় পরিমাণে কিছুটা কমিয়ে সবাইকে দেওয়া হয়েছিল। এখানে এক কেজি কেন, এক ছটাক চাল বিতরণেও যদি অনিয়ম করে থাকি; তাহলে এর জন্য আমি জেল খাটতে প্রস্তুত আছি।’