শিক্ষার্থী ধর্ষণের অভিযোগ, মাদ্রাসা ঘেরাও করে শিক্ষককে পিটুনি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মাদ্রাসায় অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করতে গিয়ে ক্ষুব্ধ লোকজনের হামলায় ওসিসহ তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। বৃহস্পতিবার দুপুরেছবি : প্রথম আলো

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মাদ্রাসায় আবাসিক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যরা মাদ্রাসা ঘেরাও করে ওই শিক্ষককে মারধর করেন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার খলিশাকুন্ডি ইউনিয়নের একটি মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে খবর পেয়ে ওই শিক্ষককে আটক করতে গিয়ে ক্ষুব্ধ লোকজনের হামলায় দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আহত ওসি খালেদুর রহমান, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) নজরুল ইসলাম ও কনস্টেবল আজম হোসেন দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

পুলিশ, স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসার হেফজ বিভাগে পড়ুয়া একাধিক ছাত্রকে বিভিন্ন সময় ওই শিক্ষক যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণ করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে আজ দুপুরে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মাদ্রাসায় গিয়ে তাঁকে মারধর শুরু করেন।

খলিশাকুন্ডি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, মাদ্রাসার ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠার পর স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে অবরুদ্ধ করেন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং শিক্ষককে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।

এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার করে গাড়িতে তোলার সময় উত্তেজিত জনতা হামলা করেন। এতে আমিসহ তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছি। অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এরপর শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তৌহিদুল হাসান তুহিন বলেন, ওসিসহ আহত তিন পুলিশ সদস্য হাসপাতালে আসেন। তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।