কৃষি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, জুলাইয়ের শুরু থেকে মধ্য অক্টোবর পর্যন্ত আমন মৌসুম। আমন ধানের চারা রোপণের সময় মধ্য জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। চারা রোপণের সময়ে অ-ইউরিয়া সার ব্যবহার করতে হয়। অ-ইউরিয়া সারের মধ্যে একটি হচ্ছে এমওপি।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন সংস্থা (বিএডিসি) যশোর কার্যালয় সূত্র জানায়, বিএডিসির দরপত্রের মাধ্যমে বেসরকারি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশ থেকে সার আমদানি করে জাহাজে করে দেশে আনে। এরপর চুক্তিবদ্ধ পরিবহন ঠিকাদারের মাধ্যমে ছোট জাহাজে করে খুলনায় এবং যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়ায় আনা হয়। কৃষি মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দের পর এই দুই জায়গা থেকে ৩৫টি জেলার গুদামে সার পরিবহন করেন ঠিকাদাররা। যশোর গুদামে সার পরিবহনের দায়িত্ব পেয়েছে ঢাকাভিত্তিক পরিবহন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পোটন ট্রেডার্স এবং কুষ্টিয়া ট্রেডিং এজেন্সি।

সূত্র জানায়, গত জুলাই মাসে ২ হাজার ১৯২ মেট্রিক টন এমওপি সারের মধ্যে ১ হাজার ৮৯৫ মেট্রিক টন এবং গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলতি আগস্ট মাসের জন্য বরাদ্দ ১ হাজার ৮৬৭ মেট্রিক টনের মধ্যে মাত্র ৪১ মেট্রিক এমওপি সার গুদামে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে গুদামে মাত্র ৪২ মেট্রিক টন এমওপি সার মজুত আছে।

বিএডিসি যশোর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (সার) মো. নূরুজ্জামান বলেন, বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও পরিবহন ঠিকাদাররা এমওপি সার গুদামে পৌঁছে দিচ্ছেন না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

পোটন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী এবং বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএ) চেয়ারম্যান কামরুল আশরাফ খান বলেন, ‘মধ্যে ইউরিয়া সারের ক্রাইসিস ছিল। ইউরিয়া সার পরিবহন করতে গিয়ে এমওপি সার পরিবহনে দেরি হয়েছে। আমরা পরিবহন শুরু করেছি। সাত-আট দিনের মধ্যে সব ঠিক হয়ে যাবে।’

যশোরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় এবার আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৯৪৭ হেক্টর জমি। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আমন ধানের চারা রোপণ করা হয়েছে ৩৩ হাজার ১৩০ হেক্টর জমিতে। এ জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে জুলাই মাসের জন্য ২ হাজার ১৯২ মেট্রিক টন এবং আগস্ট মাসের জন্য ১ হাজার ৮৬৭ মেট্রিক টন এমওপি সার বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওই সার বিএডিসির আমদানি করা। কৃষক পর্যায়ে সরকার নির্ধারিত প্রতি বস্তা (৫০ কেজির) এমওপি সারের দাম ৭৫০ টাকা (১৫ টাকা প্রতি কেজি)। জেলায় বিসিআইসির (বাংলাদেশ রসায়ন শিল্প সংস্থা) ১৪২ জন এবং বিএডিসির ১৬০ জন ডিলারের মাধ্যমে এসব সার সরবরাহ করার কথা। বাস্তবে তা হচ্ছে না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোর কার্যালয়ের উপপরিচালক এবং জেলা সার ও বীজ ও বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্যসচিব মো. মঞ্জুরুল হক বলেন, ‘এমওপি সারের সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। বিষয়টি আমাদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, কৃষক পর্যায়ে সার ব্যবহার সুষমকরণ, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ব্যয় কমাতে সরকার ২০০৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আমদানি করা অ-ইউরিয়া, যেমন টিএসপি (ট্রিপল সুপার ফসফেট), ডিএপি (ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট) ও এমওপি সারে ভর্তুকি দিয়ে আসছে। সরকার বিএডিসির মাধ্যমে সরাসরি বিদেশ থেকে অ-ইউরিয়া সার আমদানি করে থাকে। এ ছাড়া সরকার নির্ধারিত বেসরকারি সার আমদানিকারকদের মাধ্যমে সার আমদানি করে। বেসরকারি সার আমদানিকারকদের আমদানি করা সারে সরকার ভর্তুকি দিয়ে থাকে।

এমওপি সারসংকট বিষয়ে জেলা প্রশাসক এবং জেলা সার ও বীজ ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি তমিজুল ইসলাম খান বলেন, বিষয়টি খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন