গতকাল রোববার আশুলিয়ার চিত্রশাইল এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আগের মতো এখন রাস্তার মোড়ে কিশোরদের অযথা আড্ডা দিতে দেখা যায় না। প্রতিদিনই পুলিশের টহল দল ঘুরে যাচ্ছে। সন্দেহভাজনদের ডেকে কথা বলছে পুলিশ। কাউকে উত্ত্যক্ত বা কারও সঙ্গে কিশোরদের অসদাচরণের অভিযোগও এই কদিনে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা সেলিম মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, স্কুল-কলেজে ক্লাস শুরুর সময় থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পার্শ্ববর্তী সেলুন, চায়ের দোকানে বসে এলাকার কিশোররা আড্ডা দিত। এখন আর তাদের কাউকে বসে থাকতে দেখা যায় না।

হাজী ইউনুছ আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সাইফুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এলাকাটিতে নিয়মিত টহলের উদ্যোগ নেওয়ায় পর থেকে পরিস্থিতি যথেষ্ট ভালো।

সাভার উপজেলা নাগরিক কমিটির সভাপতি কৃষিবিদ রফিকুল ইসলাম মোল্লা প্রথম আলোকে বলেন, নিহত ওই শিক্ষককে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির সভাপতি করা হয়েছিল। দায়িত্ব পালন করার কারণে তাঁকে সবার সমানে একজন শিক্ষার্থী পেটাল। কিন্তু কোনো শিক্ষক কিছুই বললেন না, এটা মেনে নেওয়া যায় না। এ হত্যাকাণ্ডের দায় শিক্ষকেরা এড়াতে পারেন না। ওই এলাকার সবার নিরাপত্তার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশকে নিশ্চিত করতে হবে।

পুলিশের পদক্ষেপের বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম কামরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, এলাকাটিতে নিয়মিত পুলিশের একটি টহল টিম কাজ করছে। কাউকে সন্দেহ হলেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং অভিভাবকদের ডেকে কঠোর নির্দেশনা দিয়ে তাঁদের জিম্মায় দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষক হত্যার ঘটনার প্রধান আসামি ও তাঁর বাবাকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তাঁরা। মামলার তদন্ত কার্যক্রম শেষ করে দ্রুতই অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে।

নিহত শিক্ষকের পরিবারকে সহায়তার সিদ্ধান্ত

হাজী ইউনুছ আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সাইফুল হাসান বলেন, মায়ের চিকিৎসা, ভরণপোষণসহ সব খরচ বহন করতেন নিহত শিক্ষক উৎপল কুমার সরকার। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে এ সপ্তাহে ওই শিক্ষকের মাকে এক লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এ ছাড়া তিনি জীবিত থাকাকালীন প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকা যেন নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে তুলতে পারেন, সে ব্যবস্থা করা হবে। তাঁর মৃত্যুর পর প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে যে টাকা তাঁর অ্যাকাউন্টে রাখা হবে, সে টাকা তার ইচ্ছা অনুসারে দুজন নমিনিকে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

প্রসঙ্গত, গত ২৫ জুন হাজী ইউনুছ আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক উৎপল কুমার সরকারকে (৩৫) কলেজের মেয়েদের ক্রিকেট টুর্নামেন্ট চলাকালে ক্রিকেট খেলার স্টাম্প দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মক আহত করেন একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দশম শ্রেণির ছাত্র আশরাফুল ইসলাম ওরফে জিতু (১৯)। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই শিক্ষক মারা যান। ঘটনার পর এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের নানা অপরাধের অভিযোগ ওঠে। আশরাফুলের বিরুদ্ধে ওঠে কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ। এ ঘটনায় আশরাফুল ও তাঁর বাবা উজ্জ্বল মিয়াকে পরে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও কিশোর গ্যাংয়ের অন্য সদস্যদের ভয়ে শঙ্কিত ছিলেন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় লোকজন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন