পুলিশ জানায়, আটক রোহিঙ্গারা হলেন—ভাসানচর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১২ নম্বর ক্লাস্টারের নুরুল হাকিম (২৬), ৮১ নম্বর ক্লাস্টারের মো. আলম (২৪), ৮৭ নম্বর ক্লাস্টারের মো. অলি আছান (২৭), সোনা মেহের (১৮), ফিরোজা বেগম (২২) এবং ১৪ ও ১০ মাস বয়সী দুই শিশু। আটক দুই দালাল হলেন—সুবর্ণচর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. নুর আমিন (৫০) ও মো. ইউসুফ (১৮)।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গতকাল রাত ১০টার দিকে মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের চর মোকছুমুল গ্রামে অপরিচিত কয়েকজন ব্যক্তিকে ঘোরাফেরা করতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহ হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তাঁরা ‘রোহিঙ্গা’ বলে স্বীকার করেন।

রোহিঙ্গারা জানান, সুবর্ণচরের বাসিন্দা ও দালাল নুর আমিনের মাধ্যমে গত রোববার রাতে তাঁরা ভাসানচর থেকে পালিয়ে সুবর্ণচরে রওনা হন। গতকাল সন্ধ্যা ছয়টায় তাঁরা সুবর্ণচরের কামাল বাজারে এসে পৌঁছান। পরে তাঁদের আটক করে মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন চৌধুরীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। খবর পেয়ে আজ ভোরে আটক রোহিঙ্গাদের হেফাজতে নেয় পুলিশ।

এলাকাবাসী ও আটক রোহিঙ্গাদের ভাষ্য, দালাল নুর আমিন ভাসানচরে মাছের ব্যবসা করেন। সেই সুবাদে আটক রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কয়েক দিন আগে তাঁর পরিচয় হয়। পরিচয়ের একপর্যায়ে রোহিঙ্গারা পালাতে চাইলে তাঁদের ইটভাটায় কাজ দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। বিনিময়ে তাঁদের কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন তিনি। দাবি অনুযায়ী টাকা পরিশোধের পর আটক রোহিঙ্গাদের ভাসানচর থেকে নিয়ে আসা হয়।

চরজব্বার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জয়নাল আবেদীন প্রথম আলোকে বলেন, আটক দুই দালালসহ রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মানব পাচার আইনে মামলা করা হয়েছে। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিকেলে তাঁদের আদালতে পাঠানো হবে।