প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল রাতে আসলামপুর ইউনিয়নের বদ্দারহাট বাজার এলাকায় স্বতন্ত্রপ্রার্থী আবুল কাশেম ও নৌকার প্রার্থী নুরে আলম গণসংযোগ করতে বের হন। বাজারের পশ্চিম দিকে কাঁচাবাজার এলাকায় নুরে আলমের নির্বাচনী কার্যালয় এবং সদর রোডে আবুল কাশেমের নির্বাচনী কার্যালয়। আবুল কাশেম তাঁর নির্বাচনী কার্যালয় থেকে ১৪ থেকে ১৫ জন সমর্থক নিয়ে গণসংযোগে বের হন। এ সময় নৌকার প্রার্থী নুরে আলমের ভাই আব্বাস বিদ্রোহী প্রার্থী আবুল কাশেমকে ধাক্কা দেন। এ নিয়েই উভয় পক্ষ মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে, যা পরবর্তী সময়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। আহত অবস্থায় আবুল কাশেমের ছয়জন এবং নুরে আলমের সাতজন সমর্থককে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করা হয়।

চরফ্যাশন উপজেলার নির্বাচন কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ২৮ নভেম্বর আসলামপুর ইউপির নির্বাচনে ভোট গ্রহণ হবে। নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন তিনজন। তবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিরোধ লেগেই আছে। সংঘর্ষের ঘটনায় গতকাল রাতে স্বতন্ত্র প্রার্থী একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন এটির তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে।

কৃষক লীগ নেতা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল কাশেমের নির্বাচন পরিচালনার সমন্বয় করেন তাঁর ছেলে মো. জাহিদুল ইসলাম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘নুরে আলমের ভাই আব্বাস আনারস প্রতীকের প্রার্থী আবুল কাশেমকে ধাক্কা দিয়েই  ক্ষান্ত হয়নি। তাঁরা দলবল নিয়ে এসে আমাদের নির্বাচনী কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে। তাঁরা আমাদের ১৩ থেকে ১৪ জন কর্মীকে পিটিয়ে জখম করেছেন। এর মধ্যে ছয়জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।’ এ ঘটনায় তাঁরা চরফ্যাশন থানায় ও উপজেলা নির্বাচনী কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

তবে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরে আলম দাবি করেন, উপজেলা কৃষক লীগ সভাপতি আবুল কাশেমের কর্মী-সমর্থকেরা তাঁর নির্বাচনী কার্যালয়ে ভাঙচুর করেছেন। তাঁর সমর্থকদের পিটিয়ে আহত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার লোকজন নৌকার নির্বাচনী কার্যালয়ে বসা ছিলেন। এ সময় স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল কাশেম কিছু বহিরাগত লোকজন নিয়ে আমার কার্যালয়ের সামনে দিয়ে মিছিল নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় তাঁরা নৌকার পোস্টার ছেঁড়েন এবং ঝুলিয়ে রাখা নৌকা টান দিয়ে ফেলে দেন। তখনই আমার ক্ষুব্ধ কর্মীরা মিছিল বের করে তাঁদের ধাওয়া দিই। তাঁরা ধাওয়া খেয়ে পরবর্তী সময়ে আবার এসে আমাদের নির্বাচনী কার্যালয় ও আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর করেন। তাঁরা নিজেদের নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর করে আমাদের ওপর দোষারোপ করছেন।’ এ ঘটনায় তাঁর ১২ থেকে ১৩ জন কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বলে দাবি করেন চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোরাদ হোসেন। তিনি বলেন, উভয় পক্ষকে ডেকে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে প্রচার-প্রচারণা চালাতে বলা হয়েছে এবং কোনো ধরনের সহিংসতা না করতে সতর্ক করা হয়েছে। এ ছাড়াও উভয় পক্ষকে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। এরপর তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।