খুলনায় যুবককে কুপিয়ে হত্যা, আড়াই মাস আগে গুলি করা হয়েছিল মা–বাবা, স্ত্রী ও ভাইকে

নিহত রাশেদের লাশ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছেছবি: প্রথম আলো

খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার কৃষ্ণনগর এলাকার এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখমের চিহ্ন রয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে নগরের লবণচরা থানা এলাকার সাচিবুনিয়া স্কুলভিটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত কাজী রাশিদুল ইসলাম (২১) কৃষ্ণনগর এলাকার কাজী আনিসুর রহমানের ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোশাররফ হোসেন প্রথম আলোকে জানান, রাশিদুলের বাড়ি খাদিজাবাগ–কৃষ্ণনগর ঠিকরাবাদ এলাকায়। আজ কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তি তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে বাড়ি থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরের স্কুলভিটা এলাকায় তাঁকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

রাশিদুল খুলনার একটি ছাপাখানার কর্মচারী ছিলেন। প্রাথমিকভাবে পূর্বশত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় তিন বছর আগে একটি মামলায় রাশিদুল কারাগারে যান। সেখানে ইমরান নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। ওই সূত্রে ইমরানের পরিবারের সঙ্গে রাশিদুলের যোগাযোগ গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে ইমরানের স্ত্রীর সঙ্গে রাশিদুলের সম্পর্ক তৈরি হয়। প্রায় আট মাস আগে ইমরান আরেকটি মামলায় কারাগারে গেলে রাশিদুল ওই নারীকে বিয়ে করেন।

এ ঘটনার জেরে গত ১৯ মার্চ একদল দুর্বৃত্ত রাশিদুলের বাড়িতে ঢুকে তাঁর বাবা আনিসুর রহমান, মা রঞ্জুয়ারা বেগম, বড় ভাই রাইছুল ইসলাম ও স্ত্রী ফাহিমাকে গুলিতে আহত করে। পরে তাঁদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

ওই সময় গুলিবিদ্ধ ফাহিমা বলেছিলেন, সাত থেকে আট মাস আগে সাবেক স্বামী ইমরানের সঙ্গে তাঁর বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর তিনি বিয়ে করেন। ভোরে তাঁর সাবেক স্বামী লোকজন নিয়ে এসে ঘুমন্ত অবস্থায় তাঁদের ওপর গুলি চালান।

রাশিদুলের বাবা আনিসুর রহমান আজ হাসপাতালের মর্গের সামনে বলেন, মার্চে তাঁদের ওপর হামলায় জড়িত ব্যক্তিরাই এবার তাঁর ছেলেকে হত্যা করেছে।

ওসি মোশাররফ হোসেন বলেন, জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত করা হচ্ছে।