পাঁচ ঘণ্টা পর ছাড়া পেলেন নড়াইল নার্সিং কলেজের অবরুদ্ধ অধ্যক্ষ ও প্রশিক্ষক
দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগে নড়াইল নার্সিং কলেজের অধ্যক্ষ আফরোজা খাতুন ও তাঁর সহযোগী প্রশিক্ষক রেকসোনা পারভীন পাঁচ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর মুক্তি পেয়েছেন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে তদন্তের আশ্বাসে তাঁদের যেতে দেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
এর আগে আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা সাড়ে তিনটা পর্যন্ত ওই অধ্যক্ষ ও প্রশিক্ষককে অধ্যক্ষের কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা।
কলেজের শিক্ষার্থী অন্তীম হিরা, তানজীবুর আলমসহ কয়েকজন জানান, আফরোজা খাতুনের বিরুদ্ধে মেসের টাকা আত্মসাৎ, শিক্ষার্থীদের গালাগাল, ডিরেক্টরেট জেনারেল অব নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারির (ডিজিএনএম) বরাদ্দ করা অর্থ আত্মসাৎ, নম্বর কম দেওয়ার ভয় ও প্রাণনাশের হুমকিসহ বিভিন্ন অভিযোগে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে কলেজ চত্বরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে অধ্যক্ষের কক্ষে দুজনকে অবরুদ্ধ করা হয়। এ সময় ওই দুজনের পদত্যাগ, দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডের সুষ্ঠু জবাবদিহি ও আত্মসাৎ করা সব অর্থ ফেরতের তিন দফা দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থী সোনিয়া আক্তার বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করেছি। আমরা তাঁদের পদত্যাগ চেয়েছিলাম, সেটি তাঁরা করেছেন। পদত্যাগপত্র নিয়ে গেলে তাঁরা তাতে স্বাক্ষর করেছেন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বাকি দুই দাবি পূরণের আশ্বাস দেওয়ায় আমরা তাঁদের যেতে দিয়েছি।’
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অস্বীকার করে আফরোজা খাতুন বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যে দোষারোপ করা হচ্ছে, তা শতভাগ মিথ্যা। তারা আমাকে যে দোষারোপ করছে, আমি যদি এক হাজারও সাফাই করি, তারা মানবে না, শুনবে না। তারা আমাকে যে অসম্মানিত করল, এর বিচার আমি আল্লাহর কাছে দিলাম।’
নড়াইল সদর থানার পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওলি মিয়া বলেন, খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।