একইভাবে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের ১১ শয্যার বিপরীতে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে ২৬ শিশু। আর সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩০ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে ৭০ শিশু।

সাতক্ষীরা সদর হাসাপাতাল ও সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে দুই শতাধিক শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গত সপ্তাহে সাতক্ষীরা শিশু হাসপাতালে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত ১১টি শিশু ভর্তি ছিল। এ ছাড়া সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ১০ ও সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মাত্র ১৩ শিশু ভর্তি ছিল।

সাতক্ষীরা সদরের গোপিনাথপুর গ্রামের শারমিন খাতুন নামের এক শিশুর মা জানান, গত সোমবার শ্বাসকষ্ট হওয়ায় তাঁর আট মাস বয়সের ছেলে আরিয়ানকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসা নেওয়ার পর তাঁর ছেলের অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

সাতক্ষীরার তালা উপজেলা ধানদিয়া গ্রামের মা হালিমা খাতুন বলেন, সর্দি–কাশিতে আক্রান্ত তাঁর এক বছর বয়সের শিশুকে দুদিন আগে হাসপাতালে ভর্তি করেন। এখনো কোনো উন্নতি হয়নি।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আগরদাড়ি এলাকার আমিনুর রহমান জানান, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়া গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে তিনি তাঁর সাড়ে তিন মাস বয়সের ছেলে শিয়াম হোসেনকে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। গতকাল বিকেল চারটার দিকে তাঁর ছেলের অবস্থার উন্নতি হয়েছে।

সাতক্ষীরা শিশু হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা আবুল বাশার বলেন, হঠাৎ করে আবওয়া পরিবর্তন হওয়ায় শিশুরা সর্দি–কাশি, জ্বর ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। শিশু হাসপাতালে প্রতিদিন বহির্বিভাগে শতাধিক রোগী চিকিৎসা দিচ্ছেন। আর ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে বর্তমানে শয্যা খালি নেই। ঠান্ডাজনিত রোগ প্রতিরোধে তিনি শিশুদের যাতে কোনোভাবে ঠান্ডা না লাগে, সেদিকে খেয়াল রাখার পরামর্শ দেন। এ ছাড়া তিনি শিশুদের প্রচুর পরিমাণে পানি ও তরল খাবার খাওয়ানোর পরমর্শ দেন।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক রওশন বলেন, প্রতিবছর সাধারণত আবহাওয়া পরিবর্তনের সময়

শিশুরা সর্দি–কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্টসহ নানারোগে আক্রান্ত হয়। শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম। এ জন্য বিশেষ করে এ সময় তাদের প্রতি বেশি যত্নবান হতে হবে।