যুবকদের হাতে কাজ তুলে দেব, বেকার ভাতা নয়: জামায়াতের আমির
যুবকদের হাতে বেকার ভাতা নয়, কাজ তুলে দেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা যুবকদের হাতে অপমানজনক বেকার ভাতা দেব না, ইনশা আল্লাহ। প্রত্যেক তরুণ-তরুণী, যুবক-যুবতীর হাতকে আমরা মজবুত দক্ষ কারিগরের হাতে পরিণত করব। এরপর বলব, তোমার উপযুক্ত কাজটা তুমি নাও, যাও এগিয়ে যাও, দাও নিজেকে উজাড় করে দেশকে দাও। আমরা তাদের হাতে কাজ তুলে দেব, বেকার ভাতা নয়।’ আজ মঙ্গলবার দুপুরে ময়মনসিংহ নগরের সার্কিট হাউস ময়দানে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
হেলিকপ্টারে করে ময়মনসিংহে আসেন শফিকুর রহমান। দুপুর সাড়ে ১২টায় তিনি সমাবেশ স্থলে যোগ দেন। তিনি সভায় জেলার ১১টি আসনে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থীদের হাতে দলীয় প্রতীক তুলে দিয়ে সবার জন্য ভোট চান।
জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। আল্লাহ–তাআলা এমন একটি সবুজ–শ্যামল দেশে আমাদের জন্ম দিয়েছেন, যেখানে মাটি উর্বর, মানুষ পরিশ্রমী, পানিতে আছে সম্পদ, মাটির নিচে সম্পদ, পানির নিচে সম্পদ। এত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও ১৯৪৭ ও ১৯৭১ সালে দুবার স্বাধীনতার পর দীর্ঘ ৭৭ বছরে বাংলাদেশ একটা জায়গায় এসে দাঁড়াতে পারল না। আমাদের দেশের পাসপোর্টের ভ্যালু খুব দুর্বল। অনেক জায়গায় দেশের পরিচয় অনেকে দিতে লজ্জাবোধ করেন। এর জন্য দায়ী আমাদের অসৎ নেতৃত্ব। যারা জনগণকে ধোঁকা দিয়ে তাদের ধারণা অনুযায়ী বোকা বানিয়ে জনগণের কিসমত খামচে খায়, এরাই বাংলাদেশকে এগোতে দেয়নি।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘যুবকেরা ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে, আমরা আর ধান্দাবাজি-ধাপ্পাবাজির রাজনীতির সঙ্গে নেই। আমরা কোনো কার্ড এবং বেকার ভাতার সঙ্গেও নেই। আমরা নতুন বাংলাদেশ দেখতে চাই। সেই নতুন বাংলাদেশ হবে ২০২৪–এর আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ। তারা রায় দিয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করেছে আপাতত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে একটু বিশ্রাম নিয়েছে। যত বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচন হয়েছে, সব কটিতে আমাদের জুলাই যোদ্ধারা আমাদের তরুণ-তরুণীরা, যুবক-যুবতীরা জানিয়ে দিয়েছে আমরা ফ্যাসিবাদের দোসরদের সঙ্গে নেই। এখনই যারা মানুষের ওপর অত্যাচার–নির্যাতন করে, চাঁদাবাজি করে, লুণ্ঠন করে জনগণের সম্পদ। ক্ষমতায় গেলে এরা কী করবে? সারা বাংলাদেশকে কামড় দিয়ে খেয়ে ফেলবে। মা-বোনদের ইজ্জতের ধার-ধারবে না।’
উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে জামায়াতের আমির বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন, এদের নেতারা এখনই হুংকার দিয়ে বলে, যদি কেউ নেকাব, হিজাব পরে আসে খুলে ফেলবা। বলে, কাপড় খুলে নিবে। এরা কী মায়ের সন্তান না? এরা মায়ের ঘর থেকে জন্ম নেয় নেই? এ রকম আচরণ যারা করবে, এদেরকে কি মানুষ বলা যায়? আমি এর প্রতিবাদ করি, এখন আমার পেছনে লেগে গেছে। তোমাদের এসব লাগালাগির কোনো পরোয়াই করি না। তোমাদের ওই সব জিনিসের জবাব দেওয়ার সময়ও আমার নেই। আমি-আমরা জনগণকে নিয়ে কী স্বপ্ন দেখি, বাস্তবে কী করেছি, সামনেইবা কী করব, এটা বলারই সময় পাই না, তোমাদের ওই সব নোংরা জিনিসে পড়ে থাকার সময় আমাদের নেই।’
ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসঙ্গ টেনে শফিকুর রহমান বলেন, ‘এ রকম একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর কৃষিতে বিপ্লব হয়ে সারা দেশের চেহারা পাল্টে দেওয়ার কথা। আমি জানি, এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার যে পরিমাণ বাজেট, লজিস্টিক ও জনবল সরবরাহ করার দরকার তা করা হয় না। এরপরও এই বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশকে অনেক কিছু দিয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া গবেষণা ক্ষেত্রে অন্য বড় কোনো বিশ্ববিদ্যালয় কাছাকাছিও দিতে পারেনি।’ তিনি বলেন, নির্বাচনে ১১–দলীয় জোট জয়ী হলে এই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ নয়, এশিয়া নয়, বিশ্বের বুকে একটা শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয় হবে। এই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে গোটা ময়মনসিংহ বিভাগে কৃষিবিপ্লব ঘটবে, ইনশা আল্লাহ।
জামায়াতের আমির আরও বলেন, ‘ক্ষমতায় গেলে আমরা প্রতিটি বিভাগীয় শহরকে স্মার্ট নগরীতে পরিণত করব। একটা স্মার্ট নগরীতে থাকবে উন্নত শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পরিচ্ছন্ন নগরী এবং থাকবে পরিবেশবান্ধব একটা নগরী। এই নগরীতে যারা ব্যবসা বাণিজ্য করবেন, কোনো জালেম তাদের কাছে গিয়ে চাঁদার নামে ভিক্ষা চাইতে পারবে না। ওই হাত সেদিন অটোমেটিকেলি অবশ হয়ে যাবে। কাউকে ছাড় দিয়ে কথা বলা হবে না।’
ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের আমির কামরুল আহসানের সভাপতিত্বে ও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মোজাম্মেল হক আকন্দের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের আমির আবদুল করিম প্রমুখ।