কক্সবাজারে চাঁদা না পেয়ে ছুরিকাঘাতে ব্যবসায়ীকে হত্যা

কক্সবাজার শহরের বিজিবি ক্যাম্প এলাকায় সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে নিহত ব্যবসায়ী গণেশ পালের পরিবারে আহাজারি। আজ বিকালেছবি-প্রথম আলো

কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিজিবি ক্যাম্পের পল্লাইন্যা কাটা এলাকায় দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে গণেশ পাল (৪০) নামের এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি ওই এলাকার বিশ্বনাথ পালের ছেলে। শহরের পৌরসভার সমবায় মার্কেটে তাঁর কাপড়ের দোকান রয়েছে।

আজ শনিবার বেলা দেড়টার দিকে স্থানীয় সন্ত্রাসী জিসানের নেতৃত্বে কয়েকজন গণেশ পালের কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তাতে অস্বীকৃতি জানালে সন্ত্রাসীরা গণেশ পালকে এলোপাতাড়ি মারধর এবং একপর্যায়ে তাঁর পেটে ছুরিকাঘাত করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় গণেশ পালকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি মো. ছমি উদ্দিন।

নিহত ব্যক্তির পরিবারের বরাত দিয়ে ওসি মো. ছমি উদ্দিন বলেন, দুপুর দেড়টার দিকে গণেশ নিজ বাড়ির ড্রেন ও সেপটিক ট্যাংকের নির্মাণকাজ চালাচ্ছিলেন। এ সময় একই এলাকার সন্ত্রাসী জিসানসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। গণেশ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করা হয়। বিকেলে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। সন্ত্রাসীদের ধরতে এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

কক্সবাজার শহরের বিজিবি ক্যাম্প এলাকায় ব্যবসায়ী গণেশ পালকে হত্যার প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ। আজ রাতে শহরের প্রধা্ন সড়কে
ছবি: প্রথম আ

নিহত গণেশ পাল শহরের বড় বাজার এলাকায় পৌরসভা সমবায় মার্কেটের ব্যবসায়ী। তাঁর ভাই আশীষ পাল বলেন, পল্লানকাঠায় ভাই গণেশ নতুন বাড়ি নির্মাণ করছেন। সেখানে সেপটিক ট্যাংক বসানো হচ্ছিল। দুপুরে সেপটিক ট্যাংকের নির্মাণকাজ দেখার জন্য মার্কেটের দোকান থেকে তিনি বাড়িতে আসেন। এ সময় সন্ত্রাসীরা চাঁদা না পেয়ে গণেশকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন। তিনি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চান। জিসান একই এলাকার মোহাম্মদ জাকিরের ছেলে। ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপন করেন।