থানায় মামলা করা খুবই কঠিন। উল্টো হয়রানির শিকার হতে হয়। আর আদালতে মামলা করে কোনো লাভ নেই। গণমাধ্যমে আসা খবরগুলোই আমাদের জন্য বড় রেফারেন্স।
আহসান হাবীব, ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক, জেলা বিএনপি

বিএনপির নেতারা বলছেন, এক যুগে তাঁদের অসংখ্য নেতা-কর্মী হামলার শিকার হয়েছেন। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কোনো মামলা হয়নি। বিচার পাওয়া নিয়ে সন্দেহ ও আরও বেশি হয়রানির ভয়ে থানায় বা আদালতে যান না তাঁরা বলে জানিয়েছেন। 

তবে পুলিশ বিএনপি বা বিরোধী দলের মামলা নেয় না, এ অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘থানায় যদি মামলা না-ও নেয়, তবে আদালতে মামলা করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এমন (মামলা না নেওয়ার) কোনো ঘটনা ঘটেনি। ভুক্তভোগীকে আইনগত সহায়তা চাইতে হবে। এরপরও বড় কোনো ঘটনা ঘটলে পুলিশ নিজে থেকেই ব্যবস্থা নিয়ে থাকে।’

২০২০ সালের ২৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় মাগুরা শহরের ভায়নার মোড়ে অস্ত্রধারীদের হামলায় আহত হন পৌর যুবদলের সদস্যসচিব খান মাহাবুবুর রহমান ওরফে শান্তি (৩০)। গুরুতর আহত মাহাবুবুর রহমানকে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তির পর রাতেই তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়। দীর্ঘ চিকিৎসার পর তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন। অন্যদিকে একই দিনে মাহাবুবুরের ওপর হামলার আধা ঘণ্টা আগে শহরের কেশবমোড় এলাকায় অস্ত্রধারীদের হামলায় আহত হন যুবলীগের কর্মী মো. মারুফ (৩২)। এ ঘটনায় বিএনপির প্রায় ৪০ জন নেতা-কর্মীকে আসামি করে মামলা করেন তিনি। মামলাটি এখন বিচারাধীন।

নিজের ওপর হামলার জন্য ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাদের দায়ী করলেও যুবদলের নেতা মাহাবুবুর রহমান কোনো মামলা করেননি। ওই রাতে ইসলামপুরপাড়া জেলা বিএনপির কার্যালয়ে বোমা হামলার ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ করেননি বিএনপি নেতারা।

জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আহসান হাবীব কিশোর বলেন, ‘থানায় মামলা করা খুবই কঠিন। উল্টো হয়রানির শিকার হতে হয়। আর আদালতে মামলা করে কোনো লাভ নেই। এখন জনগণের কোনো স্পেস নেই। এর আগেও অনেক সরকার দেশ পরিচালনা করেছে, তবে পুলিশ প্রশাসন কখনোই এতটা পক্ষপাতমূলক আচরণ করেনি। এমন পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমে আসা খবরগুলোই আমাদের জন্য বড় রেফারেন্স। কারণ, ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন পরে হলেও মামলা করা যায়।’

এ বিষয়ে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক মো. নূর খান মুঠোফোনে বলেন, ‘এটা যে শুধু বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ক্ষেত্রে হচ্ছে তা নয়, আমার-আপনার ক্ষেত্রেও এটা হতে পারে। গণতন্ত্র সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় এবং জবাবদিহি না থাকার কারণেই বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে।’