শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, চারতলা ভিত্তির একতলা ভবন নির্মাণের জন্য ২০১৯-২০ অর্থবছরে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় ৮০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে দরপত্রপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। মেসার্স প্রাঞ্জল ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ পায়। ওই বছরের ২১ জুন নির্মাণকাজ শুরু হয়। চলতি বছরের মার্চ মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু ঠিকাদারের লোকজন দুই মাস কাজ করে আর আসছেন না।

শিক্ষার্থীরা বলে, কাজ ফেলে রাখায় তাদের চলাচল ও খেলাধুলায় অসুবিধা হচ্ছে। আগে মাঠের অবস্থা আরও বেশি খারাপ ছিল। বেশ কিছুদিন শিক্ষকেরা বলার পর ঠিকাদারের লোকজন কিছুটা মাটি সরিয়ে নেন। কিন্তু কাজ আর শুরু হয়নি। তাদের খেলাধুলা করতে সমস্যা হয়।

ঠিকাদারকে ফোন করলেও ধরেন না। অথচ একই সময়ে শুরু হওয়া অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবনগুলোর কাজ শেষ হয়ে গেছে।
ইমদাদুল হক, অধ্যক্ষ

কাজী শাহাবুদ্দিন বালিকা স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ ইমদাদুল হক বলেন, ‘আমরা আগের টিনশেডের ঘর দিয়ে কোনোরকম চালিয়ে নিতাম। এখন নতুন ভবনের আশায় সেটা ভেঙে ফেলে বিপাকে পড়েছি। কাজ শুরু করে ঠিকাদারের লোকজন আর আসেন না। এর আগে তাঁরা মাঠের মধ্যে মাটি ফেলে রেখেছিলেন। ফলে ছাত্রীরা মাঠে ঠিকমতো হাঁটতেও পারত না। অনেক বলার পর সেই মাটি সরিয়ে নিলেও এখন মাঠের এক পাশে তাঁদের নির্মাণসামগ্রী পড়ে আছে। মাঠে শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো খেলতেও পারে না। ঠিকাদারকে একাধিকবার ফোন করলেও ধরেন না। অথচ একই সময়ে শুরু হওয়া অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবনগুলো নির্মাণকাজ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে।’

প্রাঞ্জল ট্রেডার্সের মালিক মেহেদী হাসান বলেন, যখন দরপত্র হয়, তখন নির্মাণসামগ্রীর দাম কম ছিল। হঠাৎ দাম বেড়ে যাওয়ায় তাঁরা কিছুটা বিপদে পড়েছেন। এ ছাড়া কাজের বিপরীতে তিনি ১৯ লাখ টাকা বিল করেছিলেন। সেখান থেকে মাত্র ১০ লাখ পেয়েছেন। এ জন্য কিছুটা অর্থসংকটও ছিল। শিগগিরই আবার কাজ শুরু করা হবে। এ ছাড়া কাজটির মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করা হয়েছে।

পঞ্চগড় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক কুমার মণ্ডল বলেন, ২৭ শতাংশ কাজ হয়েছে। ঠিকাদারকে ১৩ লাখ টাকা বিল দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ঠিকাদার কাজের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছেন। কাজ খুব দ্রুত শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন তিনি।