গতকাল দুপুরে সাদিয়ার লাশ উদ্ধারের খবরে সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়ায় নিহত ব্যক্তির বাবার বাড়ি পরিদর্শন করেন সীতাকুণ্ড থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. এমরান হোসেন।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, সাদিয়ার সঙ্গে তাজুলের বিয়ে হয় ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর। ওই সময় সাদিয়ার বয়স ১৫ বছর হওয়ায় আইনগতভাবে বিয়ে বৈধ ছিল না। তাই উভয় পরিবারের সম্মতিতে একটি স্ট্যাম্পের মাধ্যমে চুক্তি করে ৭ লাখ টাকা দেনমোহরে সাদিয়ার সঙ্গে তাজুলের বিয়ে হয়। কথা ছিল পরবর্তী সময় বিয়ে রেজিস্ট্রি করে নেওয়া হবে। বিয়ের তিন মাস পর তাজুল কাজের সন্ধানে ওমানে চলে যান। তিন বছর পর গত ১৭ অক্টোবর তাজুল দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার পর সাদিয়ার পরিবার তাজুলকে বিয়ে রেজিস্ট্রি করার জন্য চাপ দেয়। তবে তাজুল রেজিস্ট্রি না করে উল্টো সাদিয়ার পরিবারকে আসবাবসহ টাকার জন্য চাপ দেন। টাকার জন্য সাদিয়াকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন মারধরও করেন বলে অভিযোগ করেছে তাঁর পরিবার।

মিরসরাই থানার পুলিশ জানায়, গতকাল তারা লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে বেলা দুইটার দিকে তাজুলদের বাড়িতে যায়। সেখানে খাটের ওপর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় সাদিয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তাঁর গলায় কালো দাগ পাওয়া গেছে।

মিরসরাই থানার এসআই মোরশেদ আলম প্রথম আলোকে বলেন, লাশ উদ্ধারের পর বিষয়টি দেখে তাদের সন্দেহ হয়। বেলা তিনটার দিকে ওই বাড়ি থেকে সাদিয়ার স্বামী তাজুলকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাজুলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আজ তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।