যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন সদর উপজেলার চর ধুরাইল এলাকার পুটি হাওলাদার ছেলে হোসেন হাওলাদার (৬০), আনাই ব্যাপারীর ছেলে মঞ্জুর আলী (৪০), ঘুনসা এলাকার আবু হাওলাদারের ছেলে সাইদুর হাওলাদার (৪৫), এরফান মাতবরের ছেলে সূর্য মাতবর (৪৪), পশ্চিমমাঠ এলাকার রফিজ উদ্দিন শেখের ছেলে ফয়েজ শেখ (৫০), শিরখাড়া এলাকার সত্তার মাতবরের ছেলে সুজাল মাতবর (৪৫)। দণ্ডপ্রাপ্ত সবাই পূর্ব বাংলা সর্বহারা দলের সদস্য ছিলেন।

রায়ে সন্তুষ্ট বাদীর পরিবার। মামলার বাদী সেলিনা খানম বলেন, ‘রায় শুনে আমার দুই মেয়ে আনন্দে কেঁদে ফেলেছে। ওরা ওদের বাবার হত্যাকারীদের বিচার দেখেছে। এই রায় যেন উচ্চ আদালতে বহাল থাকে এবং দ্রুত কার্যকর করে—এ দাবি জানাই।’
তবে রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী জাফর আলি মিয়া। তিনি বলেন, ‘আশা করছি, উচ্চ আদালত আসামিদের খালাস দেবেন।’

আদালতের নথি সূত্রে জানা যায়, ২০ বছর আগে পূর্ব বাংলা সর্বহারা দলের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল সদর উপজেলার শিরখাড়া ইউনিয়ন। এই দলের সক্রিয় নেতা লুৎফর খালাসী শিরখাড়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে মজিবুর রহমান হাওলাদারের কাছে পরাজিত হন। নির্বাচনে বিজয়ী হয়েও ভয়ে মজিবুর রহমান ইতালিতে চলে যান। তবে তাঁর বড় ভাই আ. রাজ্জাক হাওলাদার পরিবার নিয়ে এলাকাতেই ছিলেন।

২০০৩ সালের ১৯ অক্টোবর তিনি শিরখাড়া ইউনিয়নের পুরাতন রাজারহাট বাজারের দোকান থেকে বাসায় ফিরছিলেন। পথে লুৎফর খালাসী ও তাঁর সমর্থকেরা তাঁকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করেন। এ ঘটনায় ওই দিনই তাঁর স্ত্রী সেলিনা খানম বাদী হয়ে ২০ জনকে আসামি করে সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

২০০৪ সালের ৫ জুলাই সদর থানার তৎকালীন পরিদর্শক এম এ হাশেম খান ১৯ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। পরে বাদী আদালতে নারাজি দিলে ২০০৫ সালের ৩ নভেম্বর তৎকালীন সহকারী পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ১৯ জনের নামে আদালতে অভিযোগপত্র দেন এবং তিনজনকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। আদালত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, হাসপাতালের মেডিকেল কর্মকর্তাসহ ছয়জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।

বিচারকাজ চলাকালে মামলার প্রধান আসামি লুৎফর খালাসী, তাঁর দুই ভাই ওবায়দুর খালাসী ও খায়রুল খালাসী, লুৎফর খালাসীর সমর্থক ছায়াদ মাতবর ও মহাসীন হাওলাদার ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা যান। এ ছাড়া জাকারিয়া অপু, শামীম, নুরুদ্দিন মাতবর ও নুরুল হক বয়াতীর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ দুপুরে এ মামলার রায় দেন আদালত।

মাদারীপুর সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) সিদ্দিকুর রহমান সিং প্রথম আলোকে বলেন, এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট। রায় ঘোষণার সময় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত একজন ও যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত তিনজন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। দণ্ডপ্রাপ্ত বাকি আসামিরা পলাতক আছেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা সবাই চরমপন্থী দলের সদস্য ছিলেন। আসামিপক্ষ ভয়ভীতি দেখানোয় সাক্ষীরা আদালতে আসতে দেরি করেন। এ কারণে মামলা রায় দিতে দেরি হয়েছে।