প্রাথমিক শিক্ষা পদক: লোকগীতিতে দেশসেরা টাঙ্গাইলের অনয়া

জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক–২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে সার্টিফিকেট নিচ্ছেন টাঙ্গাইলের অনয়াছবি : পরিবারের সৌজন্যে

টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার বেড়বাড়ী গ্রামের অনয়া সরকার (ইশা) জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক–২০২৬-এর লোকগীতি বিভাগে সারা দেশে প্রথম স্থান অর্জন করেছে। এ কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে সে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক, সনদ ও স্বর্ণপদক (গোল্ড মেডেল) গ্রহণ করেছে।

গত বুধবার ঢাকার চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক–২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী অনয়ার হাতে সনদ ও স্বর্ণপদক তুলে দেন।

অনয়া সরকার সখীপুর উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের বেড়বাড়ী গ্রামের শংকর সরকার ও তুলি সরকার দম্পতির মেয়ে। তার বাবা কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট হিসেবে কর্মরত। বাবার চাকরির সুবাদে অনয়া বর্তমানে কিশোরগঞ্জের গাইটাল আবদুল ওয়াহেদ জনতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি অনয়ার প্রবল আগ্রহ ছিল। তার এ সাফল্যের পেছনে মা তুলি সরকার, বাবা শংকর সরকার এবং সংগীতগুরু বাবু অশোক কুমার বিশ্বাসের নিরলস উৎসাহ, ত্যাগ ও প্রশিক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। নিয়মিত সংগীতচর্চা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে এ সাফল্য অর্জন করেছে সে।

অনুষ্ঠানে অনয়া একটি ডুয়েট গান ও চারটি কোরাস গানে অংশ নেয়। তার সুরেলা কণ্ঠ, আত্মবিশ্বাসী পরিবেশনা ও সংগীতপ্রতিভা উপস্থিত অতিথিদের মুগ্ধ করে।

অনয়ার বাবা শংকর সরকার বলেন, ‘ছোটবেলায় বাবা মারা যাওয়ায় আমার বড় বোন অর্থাভাবে গান শেখার সুযোগ পাননি। সেই অপূর্ণ স্বপ্ন থেকেই আমরা চেয়েছি অনয়াকে লেখাপড়ার পাশাপাশি সংগীতের সঠিক শিক্ষা দিতে। আমার মেয়ের এই অর্জনের পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান তার মা এবং সংগীত শিক্ষকের। তাঁদের দিকনির্দেশনা ও অনয়ার কঠোর অধ্যবসায়ের ফলেই আজ সে লোকগীতিতে দেশসেরা হয়েছে।’