থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীর মোহনপুর, গোদাগাড়ী, বাগমারা, পুঠিয়া, দুর্গাপুর ও বাঘা থানায় একটি করে, বগুড়ায় ছয়টি, নাটোরের লালপুরে দুটি, জয়পুরহাট সদরে দুটি, সিরাজগঞ্জ সদরে, নওগাঁর পত্নীতলা ও রানীনগর থানায় একটি করে মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে পুঠিয়ায় থানা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি খোরশেদুল আলমসহ জয়পুরহাটের ২টি মামলায় ১৩ জন আর বগুড়ায় ১৭ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রাজশাহী জেলা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জুলফিকার রহমান ভুট্টু জানান, গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে পুঠিয়ার শিলমাড়িয়া মোল্লাপাড়ায় প্রচার সভার মঞ্চ করা হয়েছিল। রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ ওই এলাকায় গিয়ে নিজেরাই পটকা ফাটিয়ে রাতে থানায় বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ ১৪ জনের নাম দিয়ে শতাধিক নেতা-কর্মীকে আসামি করে মামলা দেয়। গতকাল সোমবার সকালে অনুষ্ঠানের ভেন্যু দেখতে গেলে সেখান থেকে খোরশেদুল আলমকে পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে কথা বলার জন্য পুলিশ ডেকে নিয়ে যায়। তাঁকে দুই ঘণ্টা বসিয়ে রেখে রাতে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গতকাল বিকেলে যুবলীগের নেতা-কর্মীরা ওই এলাকায় মহড়া দিয়ে বিএনপির মঞ্চ ভাঙচুর করেন বলেও অভিযোগ করেন ওই যুবদল নেতা।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জয়পুরহাট সদর থানায় গত শনি ও রোববার দুটি মামলা হয়েছে। বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা ২টি মামলার ১টিতে ৮ জনের নাম দিয়ে অজ্ঞাতনামা ৩০-৩৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। অপরটিতে ওই ৮ জনেরই নাম দিয়ে অজ্ঞাতনামা ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। শনিবারের মামলায় চারজনকে ও রোববারের মামলায় আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ সদর থানার জামতইল এলাকায় শনিবার মহাসমাবেশের লিফলেট বিতরণের সময় আওয়ামী লীগের লোকজন বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য রুমানা মাহমুদের গাড়ি ভাঙচুর করেন। ওই দিনই পুলিশ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমানসহ ২৬ জনের নাম দিয়ে অজ্ঞাতনামা ১৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দেয়।

বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু দাবি করেছেন, যে অভিযোগে মামলা করা হয়েছে, সে রকম কোনো ঘটনাই ঘটেনি। শুধু সমাবেশ পণ্ড করার জন্য হয়রানিমূলক মামলা দেওয়া হচ্ছে।

জানতে চাইলে রাজশাহীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলম প্রথম আলোকে বলেন, যেখানে যেখানে নাশকতার ঘটনা ঘটেছে, সেখানেই মামলা করা হয়েছে। যে থানায় এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি, সেখানে মামলা করা হয়নি।

নাশকতার অভিযোগ তুলে বগুড়া পৌরসভার কাউন্সিলরসহ জেলা বিএনপি-ছাত্রদল-যুবদল-স্বেচ্ছাসেবক দলের ৭০ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ বাদী হয়ে করা এই মামলায় আরও অনেক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। নাশকতার উদ্দেশ্যে সরকারি কাজে বাধা এবং বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে রোববার রাতে ওই মামলা করা হয়।

দুপচাঁচিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ৪৩ জনের নামে সেখানেও একটি মামলা করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

বগুড়া জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে গতকাল বিকেলে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও বগুড়া পৌরসভার মেয়র রেজাউল করিম বাদশা। তিনি বলেন, গত চার দিনে বগুড়া সদর, দুপচাঁচিয়া, কাহালু, নন্দীগ্রাম, শাজাহানপুর ও শেরপুর থানায় ৬টি গায়েবি মামলায় ৬৫৫ জন নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১৭ জনকে।

পুলিশের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বগুড়ার পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী প্রথম আলোকে বলেন, ‘গায়েবি’ মামলা বলে কোনো কিছু নেই। আইনশৃঙ্খলা বিনষ্টকারীদের তৎপরতা রোধ করতে পুলিশ সংকল্পবদ্ধ। যেখানেই আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারীদের অপতৎপরতা চোখে পড়ছে, পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে।