নাসিরনগরে ঈদের দিনে সংঘর্ষে নারীসহ আহত প্রায় অর্ধশত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় ঈদের দিনে পৃথক দুটি ঘটনায় পূর্বশত্রুতার জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ প্রায় অর্ধশত লোক আহত হয়েছেন। আজ শনিবার সকালে উপজেলার ভলাকুট ও সন্ধ্যায় বুড়িশ্বর ইউনিয়নে ওই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ সন্ধ্যায় উপজেলার বুড়িশ্বর ইউনিয়নের শ্রীঘর গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, বুড়িশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান মুকুল সরকারের বাড়িতে ঈদের দাওয়াতের কথা বলে ষাটঘরপাড়ার আমিন মিয়াকে প্রতিপক্ষের লোকজন ডেকে নিয়ে যান। সেখানে চোর সন্দেহে বেঁধে তাঁকে মারধর করা হয়। পরে আমিনের মাধ্যমে কৌশলে ইব্রাহিম মিয়া নামের আরেকজনকে ডেকে নিয়ে একইভাবে বেঁধে নির্যাতন করা হয়। খবর পেয়ে স্বজনেরা তাঁদের উদ্ধার করতে গেলে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হন। আহত নিজাম উদ্দিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
এদিকে ভলাকুট ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও বালিখোলা গ্রামের বাসিন্দা মো. তৈয়ব মিয়ার সঙ্গে সাবেক ইউপি সদস্য বাচ্চু মিয়ার মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। প্রায় তিন মাস আগে একটি হুমকিমূলক খুদে বার্তাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। আজ সকালে তৈয়ব মিয়ার ছেলে আনোয়ার হোসেন বালিখোলা গ্রামের ওষুধ কিনতে যান। সেখানে বাচ্চু মিয়ার ছেলে মজনু মিয়ার সঙ্গে আনোয়ারের কথা-কাটাকাটি হয়। ওই কথা-কাটাকাটির জেরে ঈদের নামাজ শেষে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন।
আহত ব্যক্তিদের মধ্যে বাচ্চু মিয়ার পক্ষের ইকরাম মিয়া, রুবেল মিয়া, কাপতান মিয়া, মফিজ মিয়া, আরিফ মিয়া, জসিম মিয়া, আলমগীর মিয়া, ফরসু মিয়া, গিয়াস উদ্দিন, আয়ুব আলী, খেলু মিয়া, ইউনুস মিয়া, হামিম মিয়া, ইমন মিয়া, রিফাত মিয়া, জহিরুল মিয়া, ছেনু মিয়া, তৈয়ব মিয়া, রফিজ আলী, ইসব আলী, খাজা আলম, জাহাঙ্গীর মিয়া, কালন মিয়া, আক্কাস আলী ও ইয়াসিন মিয়ার নাম জানা গেছে। অন্য পক্ষের আহত ব্যক্তিদের নাম জানা যায়নি। ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
নাসিরনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কৃষ্ণ লাল ঘোষ প্রথম আলোকে বলেন, সকালে বালিখোলা গ্রামে দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সন্ধ্যায় শ্রীঘর গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।