রাজশাহীতে পদ্মার পাড়ে ঘুরতে যাওয়া তরুণ–তরুণীকে জিম্মি করে টাকা দাবি, ফোন ছিনতাই
রাজশাহীতে পদ্মা নদীর পাড়ে ঘুরতে আসা ছেলেমেয়েদের জিম্মি করে একটি চক্র। অনৈতিক কাজের অভিযোগ তুলে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে নানাভাবে হয়রানি করা হয়। গত শনিবার বেলা ১১টার দিকে নগরের হারুপুর এলাকায় হাইটেক পার্কের পেছনে পদ্মা নদীর আইবাঁধ এলাকায় এ রকম একটি চক্রের হাতে পড়েন দুই তরুণ-তরুণী। তারা মেয়েটির কাছে ৫০ হাজার ও ছেলেটির কাছে ৩০ হাজার টাকা দাবি করে। তাঁদের উদ্ধার করতে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়েছে। দুই দিন পরও ভুক্তভোগী তরুণের মুঠোফোন উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় এখনো কেউ আটক হয়নি।
জিম্মি ওই তরুণ-তরুণীকে উদ্ধারে ভূমিকা রাখেন ওই এলাকায় বেড়াতে যাওয়া তরুণ দন্তচিকিৎসক তবারক রহমান এবং নগরের বিসিক আঞ্চলিক কার্যালয়ের কর্মচারী মামুন বিল্লাহ। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসক তবারক রহমানের ওপর এই চক্রের সদস্যরা হামলা চালান।
মামুন বিল্লাহ বলেন, তিনি তাঁর পাঁচ বছরের শিশুকে নিয়ে হাইটেক পার্কের পেছনে আইবাঁধে বেড়াতে যান। বাঁধের শেষ অংশে হট্টগোল দেখতে পান। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, এক তরুণ এক তরুণীকে নিয়ে পাশের ফুটবল খেলার মাঠের ওয়াকওয়েতে বসে ছিলেন। পাশাপাশি আরও কয়েকজন বসে ছিলেন। হঠাৎ স্থানীয় কয়েকজন ছেলে ওই তরুণ–তরুণীকে জোর করে সেখান থেকে ডেকে নিয়ে পাশের শ্মশানের কাছে নিয়ে যান। তাঁরা অনৈতিক কিছু করছিলেন বলে অভিযোগ করেন। ছেলেটিকে তাঁর পরিবারের কাছ থেকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা নিয়ে আসার জন্য চাপ দিতে থাকেন এবং তাঁর মুঠোফোন কেড়ে নেন। একপর্যায়ে ছেলেটি সেখান থেকে দৌড়ে আইবাঁধে উঠে আসেন। কিন্তু মেয়েটি তাঁদের কাছে জিম্মি ছিলেন।
মামুন বিল্লাহ বলেন, এ ঘটনা শুনে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯–এ কল করেন। এরপর উপস্থিত তিনি ও কয়েকজন মেয়েটিকে উদ্ধারের জন্য শ্মশানের দিকে যান। কিন্তু ছেলেগুলো মেয়েটিকে জোর করে নগরের বুলনপুরের দিকে নিয়ে যেতে থাকেন। এর মধ্যে নগরের কাশিয়াডাঙ্গার পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে তিনি ও ওই চিকিৎসক মেয়েটিকে উদ্ধারের জন্য বলেন। পরে বুলনপুরে গিয়ে মেয়েটিকে নদীর ধারে পাওয়া যায়। কিন্তু মেয়েটিকে তাঁরা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে হট্টগোল বাধে। দন্তচিকিৎসক তবারক রহমান ওই ছেলে ও মেয়েকে থানায় নিয়ে যাওয়ার জন্য জোর করলে চক্রের ছেলেরা তাঁর ওপর হামলা করেন। এ সময় পুলিশ মেয়েটিকে তাদের গাড়িতে তুলে নিলে স্থানীয় কয়েকজন ওই ছেলেদের সঙ্গে যোগ দিয়ে আবার হট্টগোল শুরু করেন। পরে কাশিয়াডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনাস্থলে গিয়ে তরুণ–তরুণীকে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে থানায় যান।
দন্তচিকিৎসক তবারক রহমান প্রথম আলোকে বলেন, পাঁচজন ছেলে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। তাঁদের গায়ে একই ধরনের জার্সি ছিল। একজনের জার্সির পেছনে ‘তুহিন’ লেখা ছিল। আর কারও নাম জানতে পারেননি। তাঁর দাবি, এটা একটা চক্র। কোনো ছেলের সঙ্গে মেয়ে দেখলেই তারা টার্গেট করে। ব্ল্যাকমেল করে ফোন ও নগদ টাকাপয়সা হাতিয়ে নেয়।
কাশিয়াডাঙ্গা থানার ওসি ফরহাদ আলী বলেন, অন্য থানার এলাকা হওয়ায় সেখানে সময় দেননি। তাঁদের উদ্ধার করে রাজপাড়া থানায় হস্তান্তর করেছেন।
রাজপাড়া থানার ওসি আবদুল মালেক প্রথম আলোকে বলেন, ভুক্তভোগী ছেলেটি থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত করে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ছেলেটির মুঠোফোন এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে তাঁরা উদ্ধারের চেষ্টা করছেন।