সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে টানা ২৪ ঘণ্টা অবরুদ্ধ অধ্যক্ষ–শিক্ষক, জানালা দিয়ে দেওয়া হচ্ছে খাবার
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে বেরিয়ে আসার দাবিতে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলছে। গতকাল রোববারের মতো আজ সোমবারও শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিচ্ছেন।
এর আগে গতকাল বেলা ১১টায় আন্দোলন শুরুর সময় প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। এতে ভবনের ভেতর অধ্যক্ষসহ ১৪ শিক্ষক ও ৬ কর্মকর্তা-কর্মচারী আটকা পড়েন। টানা ২৪ ঘণ্টা ধরে তাঁরা অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, দাবি মানা না হলে প্রশাসনিক ভবনের তালা খোলা হবে না।
আজ বেলা ১১টার দিকে কলেজের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘টানা ২৪ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ অবস্থায় আছি। বিষয়টি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছেন। তাঁরা বিষয়টি দেখছেন বলে আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন। বাইরে থেকে খাবার আনিয়ে জানালার ফাঁক দিয়ে ভেতরে এনে খাচ্ছি।’
২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল, পুরকৌশল এবং কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগ রয়েছে। এসব বিভাগের পাঁচটি ব্যাচে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী আছেন। তাঁদের বেশির ভাগই আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন।
সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম বর্তমানে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন পরিচালিত হয়। আর প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয় কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন। শিক্ষার্থীদের দাবি, কলেজটির একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পুরোপুরি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন নিতে হবে।
আজ বেলা ১১টায় সরেজমিনে দেখা যায়, প্রশাসনিক ভবনের ফটকে বাইরে থেকে তালা দেওয়া আছে। ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা নানা ধরনের স্লোগান দিচ্ছেন। তাঁদের স্লোগানের মধ্যে রয়েছে, ‘এক দুই তিন চার, কারিগরি আমায় ছাড়’, ‘লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে’, ‘জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো’, ‘কারিগরির দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন থাকার কারণে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির স্বকীয়তা ও পেশাগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা ক্রমাগত দাবি ও আন্দোলন করলেও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে কলেজটিকে মুক্ত করার বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন থাকার কারণে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির স্বকীয়তা ও পেশাগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা ক্রমাগত দাবি ও আন্দোলন করলেও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে কলেজটিকে মুক্ত করার বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।
এদিকে আন্দোলন চলাকালে গতকাল বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের উপসচিব সাজ্জাদ হোসেন স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে অধ্যক্ষ পদে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সহযোগী অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামানকে ফরিদপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে বদলি করা হয়। একই প্রজ্ঞাপনে ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মো. সাহিদ ইকবালকে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষ পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। আজকের মধ্যে তাঁদের বর্তমান কর্মস্থল থেকে বদলি করা কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বদানকারী চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের এক দফা দাবি আদায়ে আন্দোলন চলছে। কারিগরি অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে মুক্তিই একমাত্র লক্ষ্য। পাশাপাশি আন্দোলন চলাকালে অধিদপ্তর বা মন্ত্রণালয় থেকে কোনো ধরনের আদেশ বা রদবদল গ্রহণযোগ্য হবে না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষকদেরও অবরুদ্ধ থাকতে হবে।’