রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ আবদুস সামাদ ও হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ শাহিদুল আলমও প্রথম আলোকে বলেন, আজ নদীতে মৃত ডলফিন পাওয়ার খবর তাঁরা জানেন না।

নদী গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মনজুরুল কিবরিয়া আজ রাতে প্রথম আলোকে বলেন, মৃত ডলফিনটি খালের ডাঙায় পড়ে থাকলেও রাত ৮টা পর্যন্ত প্রশাসনের কেউ উদ্ধার কিংবা মাটি চাপা দেয়নি। তবে স্থানীয় নদীর স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে ডলফিনটির আকার ওজনের তথ্য সংগ্রহ করেছেন। এটির শরীরেও আঘাত এবং মুখ ফুলে গেছে বলে জানান তিনি।

সাড়ে চার বছরে এই প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্রটিতে মোট ৩৮টি মৃত ডলফিন উদ্ধার করা হলো। এগুলোর মধ্যে দু-একটা বাদ দিলে প্রায় সব মরা ডলফিনের শরীরে আঘাতের চিহ্ন শনাক্ত করেছিলেন উদ্ধারকারী ব্যক্তিরা।

এ নদীতে একের পর এক ডলফিন মারা যাওয়ার ঘটনা উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন গবেষকেরা। এর আগে গত ১২ জুন রাউজানের পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের আজিমেরঘাট এলাকায় ১২ কেজি ওজনের একটি মৃত ডলফিন শাবক উদ্ধার করে প্রশাসন। গত ২৬ মে হাটহাজারী উপজেলার লাঙ্গলমোড়া ইউনিয়নের তেলপরাই খালের মুখ এলাকা থেকে একটি মৃত ডলফিন উদ্ধার করা হয়। গত ১৩ এপ্রিল নদীর একই উপজেলার গড়দোয়ারা ইউনিয়নের সিপাহীরঘাট এলাকায় একটি মৃত ডলফিন পাওয়া গিয়েছিল। গত বছরের ৪ অক্টোবর, ৩০ সেপ্টেম্বর এবং এ বছরের মার্চের প্রথম সপ্তাহে আরও তিনটি মৃত ডলফিন পাওয়া গিয়েছিল নদীর ওই স্থানের ৫ কিলোমিটার এলাকায়। সেগুলোর শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।

সাড়ে চার বছরে এই প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্রটিতে মোট ৩৮টি মৃত ডলফিন উদ্ধার করা হলো। এগুলোর মধ্যে দু-একটা বাদ দিলে প্রায় সব মরা ডলফিনের শরীরে আঘাতের চিহ্ন শনাক্ত করেছিলেন উদ্ধারকারী ব্যক্তিরা। একাধিক ডলফিনকে কেটে হত্যাও করা হয়েছিল।

হালদা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচারের (আইইউসিএন) লাল তালিকাভুক্ত প্রাণী এই ডলফিন। বিশ্বের বিভিন্ন নদীতে অতি বিপন্ন প্রজাতির ডলফিন আছে মাত্র ১ হাজার ১০০টি। শুধু হালদাতেই ছিল ১৭০টি। এর মধ্যে সাড়ে চার বছরে মারা গেল ৩৮টি ডলফিন, যা খুবই উদ্বেগজনক মনে করছেন নদী ও জলজ প্রাণী বিশেষজ্ঞরা।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন