মায়ের কবরের পাশে শিশুর কান্না, ‘আমারে আপনার কাছে নিয়া যান’

মায়ের কবরের পাশে বসে কাঁদছে শিশু ছামিয়া আক্তার। কুমিল্লার লালমাই উপজেলার বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়ন পোহনকুছা পশ্চিমপাড়ায়ছবি : ভিডিও থেকে নেওয়া

মায়ের কবরের পাশে বসে অঝোরে কাঁদছে শিশুটি। গতকাল সোমবার রাতে ওই কান্নার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। শুরু হয় আলোচনা–সমালোচনা। সৎমায়ের বিরুদ্ধে শিশুটিকে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে।

ওই ঘটনায় আজ মঙ্গলবার ওই শিশু ও তার সৎমাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ডেকে আনা হয়। পরে মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান তিনি।

শিশুটির নাম ছামিয়া আক্তার (১২)। সে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়ন পোহনকুছা পশ্চিমপাড়া এলাকার সোহাগ মিয়ার মেয়ে। তার ১০ বছর বয়সী একটি ভাই আছে। তাদের মা রেহেনা বেগম পাঁচ বছর আগে মারা যান। প্রবাসী বাবা সোহাগ মিয়া দ্বিতীয় বিয়ে করেন। সৎমায়ের বিরুদ্ধে ছামিয়া ও তার ভাইকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।

২৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ছামিয়া তার মায়ের কবরের পাশে বসে অঝোরে কাঁদছে। বিলাপ করতে করতে সে বলছে, ‘ও আম্মা গো। আপনি কোথায় চলে গেছেন। আমারে আপনার কাছে নিয়া যান।’ এ সময় স্থানীয় এক নারী তাকে সান্ত্বনা দেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ওই ভিডিও দেখার পর ইউএনও উম্মে তাহমিনা (মিতু) বিষয়টির খোঁজ নেওয়ার জন্য বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লোকমান হোসেনকে দায়িত্ব দেন। ছামিয়া গতকাল তার মায়ের কবরের পাশে কান্নাকাটি করে। ওই দৃশ্য কেউ ভিডিও করে ফেসবুকে পোস্ট করেন। আজ দুপুরে ছামিয়া ও তার সৎমা আয়েশা আক্তারকে ইউএনও কার্যালয়ে আনা হয়। আয়েশা আক্তার নিজের আচরণের জন্য ক্ষমা চান এবং ভবিষ্যতে এমন কিছু না করার মুচলেকা দেন।  

আজ বিকেলে ইউএনও উম্মে তাহমিনা প্রথম আলোকে বলেন, আয়েশা আক্তারকে এক মাসের জন্য সতর্কতামূলক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে আবার কোনো অভিযোগ উঠলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইউএনও আরও বলেন, ‘মেয়েটির বাবা প্রবাসী। মুঠোফোনে তাঁর সঙ্গেও কথা বলেছি। তিনি জানান, এসব বিষয়ে কিছুই জানেন না। মেয়েটির বাবাকে বলেছি, আপনারও দায়িত্ব রয়েছে; সন্তানদের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। উপজেলা প্রশাসন থেকেও বিষয়টি মনিটর করা হবে।’