বাদাম কিনতে নৌকায় হাটে যাচ্ছিলেন ব্যবসায়ীরা, মাঝনদীতে ৩৫ লাখ টাকা লুট

লুটপ্রতীকী ছবি

মেঘনা নদীর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জের ভৈরব মোহনার মাঝামাঝি স্থানে বাদাম ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা লুট করে নিয়েছে ডাকাত দল। পরে ভৈরব নৌ থানার পুলিশ মাঝনদীতে গিয়ে ওই ব্যক্তিদের উদ্ধার করেছে। আজ শনিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভৈরবে ‘এন এম ব্রাদার্স’ নামে একটি বাদাম ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আছে। প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী পৌর শহরের চন্ডিবের এলাকার তিন ভাই মাসুম আহমেদ, শামিম আহমেদ ও ফরহাদ আহমেদ। আজ ভোর সোয়া পাঁচটার দিকে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপকসহ ১০ জনকে নিয়ে তাঁরা ভৈরব ঘাট থেকে নৌকায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বাইশমৌজা বাজারের উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে বাদাম কেনার জন্য তাঁদের সঙ্গে ৩৫ লাখ টাকা ছিল। টাকাগুলো একটি বস্তায় রাখা হয়েছিল।

বাদাম ব্যবসায়ীরা বলেন, নৌকাটি সকাল পৌনে ছয়টার দিকে ভৈরব ও আশুগঞ্জ মোহনার মাঝামাঝি এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে ইঞ্জিনচালিত আরেকটি নৌকায় করে একদল ডাকাত এসে হামলা চালায়। ডাকাতেরা নৌকায় উঠে ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে বস্তায় রাখা টাকা লুট করে নেয়। পরে তাঁরা দ্রুত পালিয়ে যায়।

খবর পেয়ে ভৈরব নৌ থানার পুলিশ স্পিডবোট নিয়ে ঘটনাস্থলে যায়। পরে মাঝনদী থেকে আক্রান্ত ব্যবসায়ীদের উদ্ধার করা হয়। ডাকাতরা পালানোর সময় আশুগঞ্জ এলাকায় যে নৌকাটি ফেলে যায়, সেটিও জব্দ করেছে পুলিশ।

এন এম ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী শামিম আহমেদ বলেন, ‘বাইশমৌজা বাজারে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত পাইকারি বাদাম বিক্রি হয়। সপ্তাহে শনি ও মঙ্গলবার বাজার বসে। আমরা প্রায় পাঁচ বছর ধরে ওই বাজার থেকে বাদাম কিনছি। নৌকায় আমরা ১৫ জন ছিলাম। ডাকাত ছিল ছয়জন। তারা প্রায় ১০ মিনিট আমাদের নৌকায় অবস্থান করে। যাওয়ার সময় আমাদের নৌকার ইঞ্জিনও বিকল করে দিয়ে যায়।’

ভৈরব নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান ডাকাতির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ধরতে অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।