অভিযোগের বিষয়ে সদস্য প্রার্থী জাহাঙ্গীর আকন বলেন, ‘কে কাকে কুয়াকাটায় নিয়ে গেছেন, সেটা আমার জানা নেই। আর যাঁরা গেছেন, তাঁরা তো যেতেই পারেন। এটা তাঁদের ব্যাপার।’

বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আকতারুজ্জামান গতকাল শনিবার রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার ভাই তালা মার্কার প্রার্থী মাইনুল হোসেন মৃধা। তিনি যাতে নির্বাচিত হতে না পারেন, সে জন্য এমন কৌশল করা হয়েছে। এর সঙ্গে স্থানীয় একজন ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্য জড়িত।’ তাঁর অভিযোগ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির সঙ্গে বৈঠকের কথা বলে ওই ৩২ জনকে ডেকে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি মৌখিকভাবে তিনি জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারকে জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, আগামীকাল সোমবার জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

বাবুগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কাজী ইমদাদুল হক আজ রোববার দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমি মন্তব্য করতে চাই না। কারণ, দুজন প্রার্থীই আমাদের দলের। সেখানে এমন ঘটনা খুবই দুঃখজনক। আমি বিষয়টি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর সঙ্গে দেখা করে তাঁকে জানাব।’

আগরপুর ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল আহসান বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের আটজন ইউপি সদস্যকে কুয়াকাটায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁদের মুঠোফোন বন্ধ। পরিবারের সদস্যরা বারবার কল করে তাঁদের পাচ্ছেন না। আমাকে কল করছেন তাঁদের বিষয়ে জানার জন্য।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খালিদ হোসেন আজ দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমিও এটা শুনেছি। তবে এর সঙ্গে আমাকে জড়ানো হচ্ছে কেন? আমি গতকাল সারা দিন বরিশালে ছিলাম। আজ সকালে বাবুগঞ্জে এসেছি। আর ইউপি সদস্যরা যদি গিয়েও থাকেন, সেটা তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার। কেউ তো আর অভিযোগ করেননি। এর সঙ্গে আমাকে জড়ানোটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।’

বরিশালের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা জসীম উদ্দীন হায়দার প্রথম আলোকে বলেন, ‘মৌখিকভাবে অভিযোগ পেয়েছি। কিন্তু কুয়াকাটা এলাকাটি পটুয়াখালীর আওতায়। আমার আওতার বাইরে। এ সম্পর্কে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিভাগীয় কমিশনার ও ডিআইজিকে অবহিত করেছি। লিখিত অভিযোগ দিতে সংক্ষুব্ধ পক্ষকে পরামর্শ দিয়েছি।’