৪৮ বছরের পুরোনো ১টিসহ রেলবহরে যুক্ত হলো ৫ লোকোমোটিভ

পার্বতীপুর কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানায় পাঁচটি রেল ইঞ্জিন মেরামত করে রেলবহরে যুক্ত করা হয়েছে। সম্প্রতি তোলাছবি: প্রথম আলো

পার্বতীপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ রেলের প্রধান ও বৃহত্তম লোকোমোটিভ রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র—কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানায় (কেলোকা) পাঁচটি রেল ইঞ্জিনের মেরামত সম্পন্ন হয়েছে। কারখানাটির প্রয়োজনীয় বাজেট ও জনবল ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও ঈদ উপলক্ষে এসব ইঞ্জিন গতকাল রোববার রেলবহরে হস্তান্তর করা হয়।

কারখানা সূত্র জানায়, ঈদযাত্রাকে সামনে রেখে পাঁচটি ডিজেলচালিত লোকোমোটিভের জেনারেল ওভারহোলিং (জিওএইচ) কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছিল। কর্মকর্তা–কর্মচারীদের সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইঞ্জিনগুলোর মেরামত শেষে রেলবহরে যুক্ত করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানার মেকানিক্যাল (কারিগরি) শাখায় মঞ্জুরিপ্রাপ্ত কর্মকর্তা–কর্মচারীর সংখ্যা ৫৫৯, তবে বর্তমানে কর্মরত মাত্র ১৩৩ জন। প্রতি মাসেই গড়ে এক থেকে দুজন কর্মী অবসরে যাচ্ছেন। জনবল ও বাজেটের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও অল্পসংখ্যক কর্মী দিয়ে কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

গত বছরের জুন থেকে চলতি বছরের ১৫ মার্চ পর্যন্ত মোট ১৬টি রেল ইঞ্জিনের ভারী মেরামত সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকা কয়েকটি ইঞ্জিনও মেরামত করে পুনরায় চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে। ১৯৭৮ সালে তৈরি ৪৮ বছর পুরোনো একটি ইঞ্জিন মেরামত করে এবারের ঈদযাত্রায় রেলবহরে যুক্ত করা হয়।

কারখানা সূত্র আরও জানা যায়, একটি রেল ইঞ্জিনে ৩৪ হাজারের বেশি যন্ত্রাংশ থাকে। এসব ইঞ্জিন মেরামতের জন্য বিভিন্ন দেশ থেকে খুচরা যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করতে হয়। একটি রেল ইঞ্জিনের স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল প্রায় ২০ বছর। আয়ুষ্কাল পেরিয়ে গেলে প্রতি ছয় বছর পরপর ইঞ্জিনগুলোকে জেনারেল ওভারহোলিংয়ের জন্য পার্বতীপুরের এই কারখানায় পাঠানো হয়। ত্রুটিপূর্ণ যন্ত্রাংশ পরিবর্তন, নতুন যন্ত্রাংশ সংযোজন এবং অকেজো অংশ মেরামতের মাধ্যমে ইঞ্জিনগুলো সচল করা হয়।

বাংলাদেশ রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রেলওয়েতে মোট ২৯৪টি লোকোমোটিভ আছে। এর মধ্যে ব্রডগেজ ১০৮টি ও মিটারগেজ ১৮৬টি। এগুলোর প্রায় ১৫০টি ইঞ্জিনের আয়ুষ্কাল ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে, যার ব্রডগেজ ৬০টি ও মিটারগেজ ৮০টি। রেলবহরে এখনো ৬৭ বছর পুরোনো ৮টি মিটারগেজ ইঞ্জিন চালু আছে। নতুন করে ৪৮ বছরের পুরোনো আরেকটি ইঞ্জিন মেরামত করে বহরে যুক্ত করা হলো।

১৯৯২ সালে সৌদি সরকারের অর্থায়নে ২০৩ কোটি টাকা ব্যয়ে পার্বতীপুরে ১১১ একর জমির ওপর ডিজেলচালিত রেল ইঞ্জিনের জেনারেল ওভারহোলিংয়ের জন্য কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানা স্থাপন করা হয়।

কারখানার প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ হাসানুজ্জামান বলেন, সীমিত বাজেট ও জনবল নিয়েই কর্মকর্তা–কর্মচারীদের প্রচেষ্টায় ১৬টি ইঞ্জিনের ভারী মেরামত সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় বাজেট ও দক্ষ জনবলের ঘাটতির কারণে কারখানার বার্ষিক উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রতি অর্থবছরে ৩০টি ইঞ্জিনের ভারী মেরামতের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও বাস্তবে ১৮ থেকে ২০টির বেশি আউটটার্ন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।