ফিলিপাইনের নাগরিক আনা মারিয়া ভেলাস্কো ও তাঁর স্বামী আব্দুল্লাহেল আমান। রোববার বিকেলে সাড়ে পাঁচটায় ক্ষেতলালের বাসা থেকে
ছবি: প্রথম আলো

প্রেমের টানে ফিলিপাইনের এক নারী জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে এসে আজ রোববার দুপুরে বিয়ে করেছেন। নববধূকে দেখতে এলাকার লোকজন ভিড় করছেন। ওই নারী দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে চাকরি করেছেন। বিয়ে করতে, সংসার করতে সেখানকার চাকরি ছেড়ে তিনি বাংলাদেশে চলে আসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

ফিলিপাইনের ওই নারীর নাম আনা মারিয়া ভেলাস্কো (৩৭)। তাঁর বর্তমান নাম মারিয়া আমান। তাঁর স্বামী আবদুল্লাহেল আমান (৩৭) ক্ষেতলাল উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত সাইফুল ইসলাম তালুকদারের বড় ছেলে।

মারিয়া আমানের শাশুড়ি ও তেলাল কুসুমশহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসরিন আক্তার বলেন, ‘ছেলের সঙ্গে ফিলিপাইনের নাগরিক আনা মারিয়া ভেলাস্কোর ফেসবুকে পরিচয়ের কথা আগেই জানতাম। সে আজ আমার পুত্রবধূ হয়েছে। আমরা সবাই খুশি।’

আবদুল্লাহেল আমান প্রথম আলোকে বলেন, ২০২০ সালে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। তখন কিছুটা হতাশ হয়ে পড়েন। তখন ফেসবুকে বেশি সময় কাটাতেন। ফেসবুকে আনা মারিয়ার সঙ্গে খুদে বার্তা আদান-প্রদান শুরু হয়। মারিয়া তখন সৌদি আরবের একটি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। এরপর তাঁদের দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাঁরা দুজন নিয়মিত অনলাইনে কথা বলতেন।

আবদুল্লাহেল আমান আরও বলেন, ‘সম্প্রতি মারিয়া সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দিয়ে বাংলাদেশে এসে আমাকে বিয়ে করার আগ্রহের কথা জানায়। আমিও তার কথায় রাজি হই। আমি আমার পরিবারের সদস্যদের কথাটি জানাই। পরিবারের সদস্যরা সবাই রাজি হন। শনিবার রাতে সৌদি আরব থেকে মারিয়া ঢাকায় পৌঁছায়। আজ বাদ জোহর আমরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছি।’

নববধূকে দেখতে বাড়ির সামনে ভিড় করেছে লোকজন
ছবি: প্রথম আলো

আজ বিকেল পাঁচটায় আবদুল্লাহেল আমানদের ক্ষেতলাল উপজেলা সদরের ভাড়া বাসায় গিয়ে দেখা গেছে, নববধূকে দেখতে উৎসুক লোকজন বাসার সামনে ভিড় করেছেন। একপর্যায়ে আবদুল্লাহেল আমান তাঁর স্ত্রীকে বাসার মূল ফটকের সামনে নিয়ে আসেন। নববধূ মারিয়া উপস্থিত লোকজনদের হাত নাড়িয়ে শুভেচ্ছা জানান। এরপর এলাকার লোকজন নববধূ ও বরের সঙ্গে সেলফি তোলা শুরু করেন।

সেখানে উপস্থিত নাসির হোসেন বলেন, ‘আমাদের দেশের অনেক জায়গায় ভালোবেসে বিদেশি তরুণী আসার কথা পত্রপত্রিকা ও টেলিভিশনে দেখেছি। ফিলিপাইনের এক নারী ভালোবাসার টানে আমাদের ক্ষেতলালে ছুটে এসেছেন। তাঁরা বিয়েও করেছেন। এটি জানার পর তাঁদের দেখতে এসেছি।’

ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, সংবাদ পেয়ে থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মারিয়া ভেলাস্কোকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। তিনি নিজ ইচ্ছায় বাংলাদেশে এসেছেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন।