এনসিপিকে ‘নীতি পরিপন্থী’ দল উল্লেখ করে হবিগঞ্জের ১৩ নেতার পদত্যাগ

এনসিপি

হবিগঞ্জ জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে ১৩ নেতা পদত্যাগ করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান তাঁরা। পদত্যাগের কারণ হিসেবে তাঁরা উল্লেখ করেন, ছয়টি নীতির মধ্য দিয়ে দলটি গঠিত হলেও সে আদর্শ থেকে সরে আসায় তাঁরা দল থেকে পদত্যাগ করেছেন।

পদত্যাগকারী নেতারা হলেন জেলা এনসিপির আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক ও আবদুল ওয়াহিদ মনির; জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব পলাশ মাহমুদ, সঞ্জয় দাশ, মিরাজুল হক, সালমা আহসান ও শেখ রুবেল আহমেদ; জ্যেষ্ঠ সদস্য জসিম উদ্দিন; সদস্য জাহিদ মিয়া, এ এইচ এম শফিউল আলম খান, কামাল আহমেদ, সোফায়েল আহমেদ ও হারুন মিয়া।

ওই ১৩ নেতা জানান, ৭১–এর স্বাধীনতার যুদ্ধ ও ২৪–এর গণ-অভ্যুত্থান মেনে নিয়ে ছয়টি নীতি নির্ধারণ করে এনসিপি গঠিত হয়। বলা হয়েছিল, আওয়ামী ও আওয়ামী সুবিধাভোগী ফ্যাসিস্টদের এ দলে নেওয়া হবে না। সেই সঙ্গে বিএনপি জামায়াতকে বাদ দিয়ে মধ্যপন্থার একটি রাজনৈতিক দল হবে এটি। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, এনসিপি আর সেখানে নেই। এ কারণে ৯৩ সদস্যবিশিষ্ট জেলা আহ্বায়ক কমিটির মধ্যে তাঁরা একযোগে পদত্যাগ করেছেন।

পলাশ মাহমুদ আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রথম আলোকে বলেন, যাঁরা পদত্যাগ করেছেন তাঁরা সবাই মূলধারার বা প্রথম দিকে গঠিত নাগরিক কমিটি থেকে আসা নেতা-কর্মী। এনসিপির নীতি ছিল বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে প্রকৃত মধ্যপন্থার একটি দল হবে। কিন্তু এখন যা দেখতে পাচ্ছি তা আমাদের কাছে মনে হয়েছে দলটি এর মূলনীতি থেকে সরে এসেছে।

পদত্যাগ করা অন্য নেতা সঞ্জয় দাশ বলেন, দলের ভেতরে এমন অবস্থা দাঁড়িয়েছে যে যোগ্যতার মূল্যায়ন করা হয় না। যে কেউ এ দলে ঢুকতে পারে। এ ছাড়া আছে কে কার লোক, তা বাছাই করে কমিটিতে রাখা। এই দলবাজির আদর্শ কোনো গণতান্ত্রিক দলের জন্য শুভ নয়।