মানিকগঞ্জে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া বিএনপি নেতাকে হেনস্তার অভিযোগ
মানিকগঞ্জ-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া বিএনপি নেতা আতাউর রহমানকে হেনস্তা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গতকাল রোববার সন্ধ্যায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
আতাউর রহমান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।
লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দুপুরে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে মনোনয়ন যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হয়। যাচাই শেষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আতাউর রহমানের মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করেন। একই সময়ে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আফরোজা খানমের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়।
মানিকগঞ্জ-৩ আসনে (মানিকগঞ্জ পৌরসভা ও সদর উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন, সাটুরিয়া) আফরোজা খানমের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার পরপরই আতাউর রহমান আপত্তি জানান। তিনি আফরোজা খানমের বিরুদ্ধে করা মামলা ও গ্যাসের বিলসংক্রান্ত বিষয় তুলে ধরে আপত্তি করেন। যাচাই-বাছাই শেষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ উপস্থিত কর্মকর্তা, অধিকাংশ প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকেরা সম্মেলনকক্ষ ত্যাগ করেন।
অভিযোগে বলা হয়, সম্মেলনকক্ষ থেকে বের হওয়ার সময় আতাউর রহমানকে ধাক্কা দিয়ে বের হতে শাসান মানিকগঞ্জ পৌর বিএনপির আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আরিফ হোসেন এবং শিবালয় উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব সোহেল রানা।
এ বিষয়ে আতাউর রহমানের ভাষ্য, সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তা না হলে ভবিষ্যতে বিএনপির প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকেরা আরও বড় ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মানিকগঞ্জ পৌর বিএনপির আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমানের মনোনয়ন বাতিল হওয়ার পর বিএনপির প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। এরপর তিনি সেখানে উপস্থিত পল্লী বিদ্যুতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তাকে বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে আপত্তি জানানোর জন্য চাপ দিতে থাকেন। একই সঙ্গে তিনি বিএনপির প্রার্থীকে নিয়ে মানহানিকর মন্তব্য করেন। এতে উপস্থিত সুধীজন আতাউরকে সম্মেলনকক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন।
বিএনপির ওই স্বতন্ত্র প্রার্থীকে হেনস্তা করা হয়নি দাবি করে যুবদল নেতা সোহেল রানা বলেন, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করায় আতাউরকে সেখান থেকে চলে যেতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার তথ্য স্বীকার করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা। তিনি বলেন, অভিযোগটি ইলেকটোরিয়াল মনিটরি কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে কমিটি পদক্ষেপ নেবে।