এর আগে গত শনিবার ভোর পাঁচটার দিকে উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের গজারিয়াকান্দি গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে টেঁটাবিদ্ধ হয়ে দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। নিহত মো. আজগর আলী শ্রীনগর ইউনিয়নের গজারিয়াকান্দি গ্রামের মৃত আশরাফ আলীর ছেলে।

পাঁচজনকে টেঁটাবিদ্ধ অবস্থায় রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আজগর আলীকে মৃত ঘোষণা করেন এবং বাকি চারজনকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গজারিয়াকান্দি গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুটি পক্ষ সক্রিয়। এর মধ্যে একটি পক্ষের নেতৃত্ব দেন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) বর্তমান সদস্য খালেক মিয়া এবং আরেক পক্ষের নেতৃত্ব দেন ইউপির সাবেক সদস্য মো. শাহ আলম। চলতি বছরের ১৩ জুলাই দুই পক্ষের সংঘর্ষে মফিজ উদ্দিন (৫০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হন। তিনি ছিলেন শাহ আলমের পক্ষের সমর্থক। এ ঘটনার পর থেকেই মামলা-হামলার ভয়ে খালেকের পক্ষের শতাধিক লোক গা ঢাকা দিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি এলাকায় ঢুকতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এজাহারে বলা হয়, গত শনিবার ভোরে শাহ আলমের পক্ষের অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনসহ এই ৫০ জন টেঁটা, একাইট্টা, তেকাইট্টা, বল্লম, রামদা, ছুরি ও চাপাতি নিয়ে হামলা চালান। এ সময় তাঁদের টেঁটা, একাইট্টা ও তেকাইট্টায় বিদ্ধ হন আজগর আলী, চান মিয়া, জামির আলী, বাচ্চু মিয়া ও শাহীন মিয়া নামের পাঁচজন। তাঁদের পাঁচজনকে টেঁটাবিদ্ধ অবস্থায় রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আজগর আলীকে মৃত ঘোষণা করেন এবং বাকি চারজনকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। ওই চারজন বর্তমানে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ছাড়া ওই দিন তাঁদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আরও পাঁচ-সাতজন আহত হন।

নিহতের ছোট ভাই ও মামলার বাদী মো. হারিস মিয়া বলেন, ‘আমার বড় ভাই আজগর আলীকে টেঁটাবিদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছে। ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সময় যাঁরা জড়িত ছিলেন, শুধু তাঁদেরই নাম মামলার এজাহারে দেওয়া হয়েছে। আমি ভাই হত্যায় জড়িত সব আসামির সর্বোচ্চ বিচার চাই।’

শ্রীনগর ইউপির চেয়ারম্যান রাসেল আহমেদ বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এই দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব গত ইউপি নির্বাচনের পর থেকেই চলছে। এর জেরে মামলা-হামলায় এলাকার শান্তি নষ্ট হচ্ছে।

রায়পুরা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সত্যজিৎ কুমার ঘোষ বলেন, পুলিশ বাদী হয়ে দুজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করেছে। এসব মামলায় এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।