কুমিল্লায় বিএনপি নেতাকে আটক
সাড়ে ৩ ঘণ্টা পর বাস চলাচল শুরু, থানার সামনে থেকে সরেননি নেতা-কর্মীরা
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল কাইয়ুমকে আটক করার প্রতিবাদে শাসনগাছা টার্মিনাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর আজ রোববার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে টার্মিনাল থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন গন্তব্যে বাস চলাচল শুরু হয়েছে।
এদিকে বিকেল পাঁচটায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় আটক বিএনপি নেতা রেজাউল কাইয়ুম কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানা-পুলিশের হেফাজতে আছেন। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কক্ষে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাঁকে আটকের প্রতিবাদে বিএনপি নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা থানার সামনে অবস্থান নিয়েছেন। প্রধান ফটক ঘেরাও করে তাঁরা একটু পরপরই রেজাউলের মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে বিএনপি নেতা রেজাউল কাইয়ুমকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করা হলেও ঠিক কী কারণে তাঁকে আটক করা হয়েছে, সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সূত্র প্রথম আলোকে জানিয়েছে, সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে রেজাউলকে আটক করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে কুমিল্লার অন্যতম বৃহৎ শাসনগাছা বাস টার্মিনালে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ আছে। তাঁর বাসাও বাস টার্মিনালের পাশে।
এর আগে আজ দুপুর ১২টার দিকে শহরের শাসনগাছা এলাকার বাসা থেকে রেজাউলকে আটক করেন কোতোয়ালি মডেল থানা ও জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা। পরে তাঁকে কোতোয়ালি থানায় নেওয়া হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে শাসনগাছা বাস টার্মিনাল অবরোধ করেন বিভিন্ন পরিবহনের চালক ও শ্রমিকেরা। এতে টার্মিনাল থেকে কুমিল্লা-ঢাকা, কুমিল্লা-সিলেটসহ বেশ কয়েকটি রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ ছাড়া একদল লোক ব্যবসায়ীদের হুমকি দিয়ে এলাকার সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেন।
বিকেলে শাসনগাছা বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেছে, আগের মতোই বিভিন্ন গন্তব্যে বাস ছেড়ে যাচ্ছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও চালু আছে। তবে জেলার বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া থেকে আসা সিএনজি অটোরিকশাগুলোকে শাসনগাছায় প্রবেশের সময় বাধা দিচ্ছেন একদল লোক। এতে অটোরিকশাচালকেরা আতঙ্কে আছেন। এ ছাড়া ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বাসিন্দা অন্তত চারজন অটোরিকশাচালক প্রথম আলোকে বলেন, দুই দিন আগে কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য মো. জসীম উদ্দিন শাসনগাছা এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় অটোরিকশাচালকেরা তাঁকে দেখে জিপির নামে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি জানান। পরে ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। শাসনগাছা এলাকার টার্মিনাল–সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রকেরা মনে করছেন, ওই ঘটনার কারণে রেজাউলকে আটক করা হতে পারে। এ জন্য বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়ার সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচলে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
বিকেল সোয়া চারটার দিকে এশিয়া লাইন পরিবহনের বাস নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন চালক মো. ফয়সাল। তিনি বলেন, সাড়ে তিনটা থেকে বাস চলাচল স্বাভাবিক। এখন কোনো সমস্যা নেই। সব রুটে বাস ছেড়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সফিউল আলম বলেন, ‘আমাদেরকে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমাদের সভাপতিকে থানায় আনা হয়েছে; জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হবে। তিনি যেহেতু আমাদের সভাপতি, এ জন্য আমরা সাংগঠনিক কারণে থানায় এসেছি। তবে তাঁকে কেন থানায় আনা হয়েছে, সেটি আমরা জানি না। বাস টার্মিনালের কোনো বিষয়ে তিনি যুক্ত নন। শ্রমিকেরা তাঁকে (রেজাউল) ভালোবেসে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিল। আমরা কথা বলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছি।’
যোগাযোগ করলে কোতোয়ালি থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ‘সিনিয়র অফিসারদের নির্দেশে রেজাউলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় আনা হয়েছে। ঠিক কী কারণে আটক করা হয়েছে, সেটা সিনিয়র অফিসাররা ভালো বলতে পারবেন। সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার স্যারসহ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। তবে এখনো তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। কিছু লোক থানার সামনে অবস্থান নিয়েছে। আমরা তাদের শান্ত করেছি। চেষ্টা করছি থানার সেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে।’
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সাইফুল মালিক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা তাঁকে কিছু বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের করার জন্য আটক করেছি। এ বিষয়ের বিস্তারিত পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।’