রায়পুরায় রাতের আঁধারে শহীদ মিনার ভেঙে দিল দুর্বৃত্তরা

নরসিংদীর রায়পুরার একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ে কলাগাছ দিয়ে তৈরি করা শহীদ মিনার ভেঙে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা
ছবি: সংগৃহীত

নরসিংদীর রায়পুরার একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ে কলাগাছ দিয়ে তৈরি করা শহীদ মিনার ভেঙে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ভোরে ফুল দিতে এসে কেটে ফেলা শহীদ মিনার দেখে বিদ্যালয়টির শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার পলাশতলী ইউনিয়নের বাজার এলাকার কে এস এ পাবলিক স্কুলে এ ঘটনা ঘটে।

বিদ্যালয়টির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলছে, গত বছর প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে প্লে থেকে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত ১৫০ জন ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করে। স্থায়ী শহীদ মিনার না থাকায় গত বছর কলাগাছ দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছিল। এবারও সোমবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিদ্যালয়টির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সম্মিলিতভাবে কলাগাছের শহীদ মিনারটি নির্মাণ করে। কাজ শেষ হওয়ার পর বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা যার যার বাড়িতে চলে যায়। আজ ভোরে প্রভাতফেরি করতে এসে তাঁরা নির্মাণ করা শহীদ মিনার তৈরির কাজে ব্যবহার করা কলাগাছ কেটে ফেলা অবস্থায় দেখতে পান।

সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্র বলে, ‘বিভিন্ন জায়গা থেকে কলাগাছ সংগ্রহ করেছিলাম আমরা। গতকাল বিকেল ৫টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত খেটেখুটে শহীদ মিনারটি বানিয়েছিলাম। সকালে ফুল দিতে এসে দেখি, কারা যেন ছুরি দিয়ে কুপিয়ে কলাগাছের শহীদ মিনারটি কেটে ফেলেছে। এর উচিত বিচার চাই আমরা।’

বিদ্যালয়টির শিক্ষক আকলিমা আক্তার বলেন, ‘স্থায়ী শহীদ মিনার না থাকায় আমরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে কলাগাছ দিয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ করেছিলাম। কেটে ফেলা শহীদ মিনার দেখে ফুল দিতে আসা শিক্ষার্থীদের মন ভেঙে গেছে। এমন কাজ কেউ করতে পারে, বিশ্বাসই করতে পারছি না।’
বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি কবির সরকার বলেন, ‘রাতের আঁধারে যে বা যারা কলাগাছ দিয়ে নির্মিত শহীদ মিনারটি কেটে ফেলেছে, তদন্ত করে তাদের খুঁজে বের করার দাবি জানাচ্ছি আমরা। এবং এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচার দাবি করছি। এ ঘটনায় আমরা হতভম্ব হয়ে গেছি। পুলিশ এরই মধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। আশা করছি, দ্রুতই জড়িত ব্যক্তিরা গ্রেপ্তার হবেন।’

রায়পুরা থানার উপপরিদর্শক মাহমুদুল হাসান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানতে চাইলে রায়পুরার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আজগর হোসেন বলেন, ‘ঘটনাটি বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আমাদের কেউ জানাননি। তবে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর পেয়ে থানা-পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছি। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।’