সভায় বক্তব্য দিয়েছেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার ইসমত আলী, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রোকেয়া বেগম, সাধারণ সম্পাদক ও শাহজাদাপুর ইউপির চেয়ারম্যান আছমা আক্তার, শাহবাজপুর ইউপির চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি খাইরুল হুদা চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শাহেদ মিয়া বাবুল, পানিশ্বর ইউপির চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, কালীকচ্ছ ইউপির চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সভাপতি ছায়েদ হোসেন, পাকশিমুল ইউপির চেয়ারম্যান কাউছার হোসেন, উপজেলা আ. লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সদর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মাহফুজ আলী, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সাদেকুর রহমান (সদ্য বহিষ্কৃত), সাবেক সদস্য এম কামাল (সদ্য বহিষ্কৃত), সরাইল সদর ইউনিয়ন আ.লীগের আহ্বায়ক মো. কায়কোবাদ, সদস্যসচিব বিল্লাল হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি ইকবাল হোসেন, সদর ইউপি সদস্য ছাদেক মিয়া প্রমুখ।

সভায় রফিক উদ্দিন ঠাকুর বলেন, ‘এখন ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ হবে। একজন ইচ্ছা করলেই আরেকজনের ভোট দিতে পারবে না। তাই আমাদের কেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি বাড়াতে হবে। এ জন্য প্রত্যেক ইউনিয়নে ও ওয়ার্ডে জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করতে হবে। সবাই নিজ নিজ এলাকার ভোটারকে কেন্দ্রে উপস্থিত থাকার জন্য কাজ করতে হবে। সাত্তার ভাই ভালো মানুষ। সৎ মানুষ তাঁকে বিজয়ী করতে হবে। আমাদের কমপক্ষে ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ ভোটার কেন্দ্রে উপস্থিত করতে হবে।’

সভায় উপস্থিত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও জনপ্রতিনিধিরা রফিক উদ্দিন ঠাকুরের এই আহ্বানে সমর্থন জানান।

উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়ার বাড়ি উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নে। ওই ইউপির চেয়ারম্যান কাউছার হোসেন সভায় বলেন, ‘আমি তাঁর (সাত্তার) সঙ্গে ৪০ বছর ধরে আছি। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে এমপি-মন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু নিজের এলাকার বা গ্রামের জন্য কিছুই করতে পারেননি। এ জন্য আমাদের দুঃখের ও লজ্জার শেষ নেই। তারপরও এলাকার স্বার্থে তাঁকে ভোট দেব এবং কাজ করব।’

এই সভার আগে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাজমুল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই আসনে দলীয় প্রার্থী নেই। উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। তিনি আগে ভিন্ন দল করতেন। এখন করেন না। প্রবীণ রাজনীতিবিদ, সৎ ব্যক্তি হিসেবে তাঁর নির্বাচন তো আমরা করতেই পারি।’ আবদুস সাত্তার  ভূঁইয়ার পক্ষে কাজ করার বিষয়ে দলীয় কোনো নির্দেশনা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ রকম কোনো নির্দেশনা পাইনি। তবে পেয়ে যাব।’

এই উপনির্বাচনে অংশ নিতে ১৩ প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। ৮ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর পাঁচজনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়। বৈধ ঘোষিত আট প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগের তিন স্বতন্ত্র প্রার্থী দলীয় সিদ্ধান্তে তাঁদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। গত বুধবার উপনির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান জাতীয় পার্টির দুবারের সংসদ সদস্য স্বতন্ত্র প্রার্থী জিয়াউল হক মৃধা। বর্তমানে আবদুস সাত্তার ভূঁইয়াসহ চারজন প্রার্থী রয়েছেন। অন্য তিনজন হলেন আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবু আসিফ আহমেদ, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব আবদুল হামিদ ভাসানী এবং জাকের পার্টির জহিরুল ইসলাম।