বরিশালে হামে আক্রান্ত হয়ে মার্চ মাসে ৭ শিশুর মৃত্যু

বরিশালের শের-ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। আজ সোমবার দুপুরে হাসপাতালে হাম ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিল ৩৪ শিশুছবি: প্রথম আলো

বরিশাল বিভাগে চলতি মাসে হামে আক্রান্ত হয়ে সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই সময়ে ২০৬ শিশুর শরীরে হামের ভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে বিভাগটির বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে ৭৭ শিশু।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, বরিশাল বিভাগে এ পর্যন্ত মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে বরগুনা, ঝালকাঠি, ভোলায় দুজন করে এবং বরিশাল একজন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের ব্যাপারে মনোযোগ না দেওয়ায় হঠাৎই পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে। শিশুদের হামের টিকা দেওয়ার বিষয়েও ঘাটতি আছে। আর হাম এতটাই সংক্রামক যে খুব দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে। একজন আক্রান্ত হলে তার থেকে ১৫-২০ জন সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এই রোগ আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি বাড়তে পারে।

আক্রান্ত ও মৃত্যুর অধিকাংশ ঘটনাই সাম্প্রতিক সময়ে ঘটেছে জানিয়ে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, কেবল ভোলায় হামের টিকার সংকট আছে। তবে বরিশালসহ অন্য পাঁচ জেলায় হামের টিকার পর্যাপ্ত মজুত আছে।

বরিশাল বিভাগের প্রধান সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আজ সোমবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, হাম ওয়ার্ডে ভর্তি আছে ৩৪ শিশু।

হাসপাতাল প্রশাসন জানায়, সেখানে গত ৩ মাসে ১৩০ জন হামে আক্রান্ত শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে শুধু মার্চ মাসেই আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে ৮৯ জন, যা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতির ইঙ্গিত দেয়।

একই হাসপাতালে গত শুক্রবার ওমর নামের বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার এক শিশুর মৃত্যু হয়। এ ছাড়া আজ সোমবার সকালে আরও এক শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।

হাসপাতালটির হাম ওয়ার্ডে ৯ মাসের মেয়েকে নিয়ে কয়েক দিন ধরে আছেন জানিয়ে বরিশাল সদর উপজেলার কর্ণকাঠি এলাকার বাসিন্দা রহিমা তালুকদার বলেন, ‘প্রথমে জ্বর মনে হলেও পরে চিকিৎসকেরা তা হাম বলে শনাক্ত করেন। এরপরই অন্য শিশু রোগীদের কাছ থেকে আমার বাচ্চাকে আলাদা করে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান মোটামুটি ভালো।’

সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মশিউল মুনীর। তিনি বলেন, শিশুদের হামের টিকা ৯ মাস বয়সে দেওয়া হয়। কিন্তু বর্তমানে সাত মাস বয়সের শিশুদেরও এ রোগে আক্রান্ত হতে দেখছি। হাসপাতালে হামের পর্যাপ্ত আছে। ওয়ার্ডটিতে বেড–সংকট ছিল, তা সমাধান করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল প্রথম আলোকে বলেন, ছোঁয়াচে এই রোগ আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বাতাসে খুব দ্রুত ছড়ায়। রোগীর সঙ্গে একই ঘরে থাকলেও সংক্রমণ হতে পারে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে শিশুদের নিরাপদে রাখতে হবে। এ ছাড়া যেকোনো বয়সের ব্যক্তিদের এ রোগ হওয়ার আশঙ্কা আছে, তাই সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।