১২ বছর পর মোংলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অস্ত্রোপচার, বিয়ের ১৯ বছর পর মা হলেন ময়না
বিয়ের প্রায় দুই দশক পর মা হয়েছেন ময়না বেগম (৩৫)। আজ বৃহস্পতিবার বাগেরহাটের মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি জন্ম দেন এক ছেলেসন্তান। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ১২ বছর পর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে অস্ত্রোপচার হলো। চিকিৎসকসহ নানা সংকটে ১২ বছর ধরে বন্ধ ছিল অস্ত্রোপচার।
মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) মো. শাহীন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ময়না বেগম বিয়ের দীর্ঘ ১৯ বছর পর প্রথম মা হলেন। ভ্যালুয়েবল প্রেগন্যান্সি বিধায় (ঝুঁকি বিবেচনায়) তাঁর অস্ত্রোপচারে সিদ্ধান্ত নিই। তাঁর সিজারের মাধ্যমে দীর্ঘ এক যুগ পর চালু হলো আমাদের হাসপাতালের ওটি (অপারেশন থিয়েটার)। সার্জারি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আমাদের হাসপাতালের চিকিৎসক সিরাজুম মুনিরা অপর দুজন চিকিৎসক আফসানা নাইমা হাসান ও অবেদনবিদ (অ্যানেসথেসিয়া) মেহেদী হাসানকে নিয়ে অস্ত্রোপচারটি করেন। বর্তমানে মা ও নবজাতক দুজনই সুস্থ।’
নবজাতকের নাম রাখা হয়েছে মোহাম্মদ আবিদ রহমান। ময়না বেগম মোংলা উপজেলার চাঁদপাই ইউনিয়নের উত্তর কাইনমারী এলাকার মো. আহাবুবুর রহমানের স্ত্রী। ১৬ বছর বয়সে ময়নার বিয়ে হয়েছিল।
চিকিৎসক সিরাজুম মুনিরা বলেন, দীর্ঘ এক যুগ বন্ধ থাকার পর আজ চালু হওয়া ওটিতে প্রথম যাঁর সিজার করা হয়েছে, তিনি মাতৃত্বের স্বাদ পেয়েছেন বিয়ের ১৯ বছর পর। দুটি ঘটনাই ভীষণ আনন্দের।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৫০ শয্যাবিশিষ্ট মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ২৮ চিকিৎসক পদের বিপরীতে বর্তমানে আছেন মাত্র ৭ জন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পদ সব ফাঁকা। উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা আটটি পদের বিপরীতে আছেন পাঁচজন। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী পদও প্রায় অর্ধেক ফাঁকা। ৪৫ জনের বিপরীতে আছেন মাত্র ২২ জন। আর ল্যাব টেকনিশিয়ান ও ল্যাব সহকারীর মোট তিনটি পদই ফাঁকা। প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদির অভাবে দীর্ঘ এক যুগ বন্ধ ছিল অস্ত্রোপচার। চিকিৎসক–সংকটের মধ্যেও দায়িত্বপ্রাপ্তদের প্রচেষ্টায় দীর্ঘ বছর পর অস্ত্রোপচার চালু হলো।
এখানে চিকিৎসক–সংকট খুবই বেশি বলে জানালেন ইউএইচএফপিও মো. শাহীন। তিনি বলেন, সার্জনসহ প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসক নেই। ফলে সব দিন অস্ত্রোপচার করা কঠিন। আজ ওটি চালু হয়েছে। এখন থেকে সপ্তাহের প্রতি সোমবার সিজারসহ সাধারণ অস্ত্রোপচার চালু থাকবে।