প্রবাসী যুবকের বাড়ি এক্সক্যাভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দিল শ্বশুরবাড়ির লোকজন

ভাঙা বাড়ির ধ্বংসস্তূপের ওপর বসে আছেন প্রবাসী রফিকুলের মা আয়েশা খাতুন। সোমবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার নাগদাহ ইউনিয়নের খেজুরতলা গ্রামেছবি: প্রথম আলো
প্রথম আলোকে নির্ভরযোগ্য সূত্র হিসেবে পেতে হলেএখানে ক্লিক করুন

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় বহুবিবাহ ও বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগে মালয়েশিয়াপ্রবাসী রফিকুল ইসলামের (৩০) বাড়ি এক্সক্যাভেটর (খননযন্ত্র) দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি উপজেলার নাগদাহ ইউনিয়নের খেজুরতলা গ্রামে। রোববারের ওই ঘটনার একটি ভিডিও সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর চলছে আলোচনা–সমালোচনা।

ভিডিওতে দেখা যায়, একদল মানুষের উপস্থিতিতে এক্সক্যাভেটর দিয়ে বাড়িটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে। তবে কেউ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছেন না। অনেককে মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করতে দেখা যায়।

সোমবার দুপুরে খেজুরতলা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙা বাড়ির ধ্বংসস্তূপের ওপর বসে কাঁদছেন প্রবাসী রফিকুলের মা আয়েশা খাতুন (৬০)। তিনি বলেন, ‘উগার হাতে–পায়ে ধরে কত করে অনুরোদ কল্লাম, রফিকুল অন্যায় কল্লি তার ছাস্তি দ্যাও। উর বাপের হাতে তৈরি করা বাড়িডা ভাইঙো না। কেউ আমার কতা শুনল না।’

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রফিকুল ইসলামের পারিবারিক জীবন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিলতা চলছিল। কয়েক বছর আগে তিনি একই গ্রামের সোনিয়া খাতুনকে বিয়ে করেন। পরে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। এরপর আবারও তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। পরবর্তী সময়ে আবার বিচ্ছেদ ঘটে। প্রায় এক বছর আগে রফিকুল দেশে ফিরে একই গ্রামের রীমা খাতুনকে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন।

স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, মাসখানেক আগে রফিকুল দেশে ফিরে আবারও তাঁর সাবেক স্ত্রী সোনিয়া খাতুনকে গোপনে বিয়ে করেছেন—এমন খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর রাজশাহীতে চিকিৎসার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে তিনি সোনিয়াকে নিয়ে মালয়েশিয়ায় চলে গেছেন বলেও এলাকায় প্রচার হয়। এ ঘটনা নিয়ে রীমা খাতুনের স্বজনেরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

স্থানীয় লোকজনের দাবি, শনিবার সন্ধ্যায় রীমার পরিবারের লোকজন রফিকুলের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেন। পরদিন রোববার কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানা এলাকা থেকে একটি এক্সক্যাভেটর এনে বাড়িটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে রীমা খাতুনের বাবা মুকুল হোসেনের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি।

তবে আলমডাঙ্গা শহরে কথা হয় রীমার মামা মঞ্জুর হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘জামাই রফিকুলের বহুবিবাহ ও বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের ঘটনায় শুধু আমাদের পরিবার নয়, গ্রামের অনেকেই ক্ষুব্ধ ছিলেন। তবে বাড়িঘর এভাবে ভেঙে দেওয়া ঠিক হয়নি। যেহেতু ক্ষোভের মাথায় বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি অনুরোধ করব, তা মেরামত বা নির্মাণ করে দেওয়ার জন্য।’

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি বলে জানান আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল। তিনি বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।